সীমান্তে দেড় কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ, গ্রেফতার-৩৯

৫:৪২ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৫, ২০১৯ রংপুর

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: সীমান্তে গত ছয় মাসে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ১০৫ টাকা মূল্যে মাদকদ্রব্যসহ চোরাচালানী মালামাল জব্দ ও গ্রেফতার ৩৯ জন।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ক্যাম্প ছয়টি, নাগেশ্বরী একটি ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় দুইটি বিজিবি ক্যাম্প অবস্থিত।

৭৮ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ১৫ (বিজিবি) ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আনোয়ার-উল-আলমের সুপরিকল্পিত দিক নিদের্শনায় বিজিবির সদস্যরা মাদক বিরোধী অভিযানে গত ছয় মাসে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ, গ্রেফতার ৩৯ ও মামলা ৩০টি দিয়ে সুনাম অর্জন করেছেন বিজিবি।

সীমান্তবাসী জানান, বর্তমানে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির সদস্যরা আসার পর থেকে রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টায় সীমান্তে সার্বক্ষনিক টহল অব্যাহত থাকায় মাদক চোরাকারবারীর সংখ্যা একেবারেই কমে এসেছে। বিজিবির কারণে সীমান্তে শান্তি বিরাজ করছে।

বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আনোয়ার-উল-আলম যোগদানের পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স দেওয়ার কারণে অতীতের তুলনায় এখন মাদকের ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীর সংখ্যা প্রায় শূণ্যে কোঠায় এসেছে।

বিজিবির অধিনায়কের নির্দেশনার ফলে মাদকদ্রব্য পাঁচার হয়ে যাতে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে আসতে না পারে সে জন্যে সীমান্তে থাকা প্রতিটি বিজিবি ক্যাম্পের ইনর্চাজকে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং নির্দেশনার আলোকে সীমান্তে অবস্থানরত বিজিবির সদস্যরা কঠোর ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

১লা জুলাই ২০১৮ হইতে ৩১ শে ডিসেম্বর ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ১০৫ টাকা মূল্যে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য হলো গাঁজা ১৬৪ কেজি, ফেন্সিডিল ২ হাজার ৫৭৯ বোতল, মদ ৪৬৩ বোতল, ইয়াবা ৩৯৯ পিস, স্কাপ সিরাপ ৭৪৫ বোতল। গ্রেফতার ৩৯ জন ও মামলা দায়ের হয়েছে ৩০ টি।

এ প্রসঙ্গে লালমনিহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আনোয়ার-উল-আলম জানান, মাদক দেশ ও জাতির শক্র। তাই মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তে বিজিবির টহল অব্যাহত থাকবে। সীমান্তে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যাপক গণ-সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনাও অব্যাহত আছে। সীমান্তবাসীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে মাদক নির্মূল করতে সক্রিয় ভূমিকায় সীমান্তকে আরো নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখবে। তাই সীমান্তবাসী এখন শান্তিতেই বসবাস করবে। এটি আমাদের বড় প্রত্যাশা।