শাহনাজের ছিনতাই হওয়া স্কুটি উদ্ধার করলো পুলিশ

১১:০৪ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ১৬, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা আলোচিত সেই শাহনাজ আক্তার পুতুলের চুরি হওয়া স্কুটি মোটরবাইকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করেছে প্রতারক জনিকে।

মঙ্গলবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে মোটরবাইকটি উদ্ধার করা হয়।

তেজগাঁও জোনের পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) আবু তৈয়ব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাতে অভিযান চালিয়ে নারায়নগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে স্কুটি মোটরবাইকটি উদ্ধার করা হয়। প্রতারক জনিকেও আটক করা হয়েছে। চুরি হওয়া স্কুটি মোটরবাইক ও আটক জনিকে ঢাকা এনে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ শাহনাজের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাইকটি তুলে দেবে।

দুইদিন আগে জনি নামে এক পাঠাও চালকের সঙ্গে পরিচয় হয় জীবিকা হিসেবে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং বেছে নেওয়া শাহনাজ আক্তার পুতুলের। ওই চালক তাকে একটা স্থায়ী চাকরি দিবে বলে মঙ্গলবার রাজধানীর খামার বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারপর অভিনব কৌশলে তার স্কুটিটি ছিনতাই করে নেন।

ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন শাহনাজ। মোবাইল ফোনেও ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। পরে শেরেবাংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

জিডিতে বলা হয়, চাকরি দেওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শাহনাজকে খামারবাড়ি আসতে বলেন জনি। পরে সেখান থেকে যেতে বলেন বিমানবন্দর এলাকায়। এভাবে কয়েকটি স্থান ঘুরিয়ে শাহনাজকে ফের খামারবাড়ি এলাকায় আসতে বলেন জনি। বিকেল ৩টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে চায়ের টং দোকানের সামনে স্কুটি রেখে চা খেতে বসেন শাহনাজ ও জনি। এসময় শাহনাজের কাছে স্কুটি চালানোর নিয়ম জানতে চান জনি। পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর কথা বলে চম্পট দেন বাইক নিয়ে।

জিডিতে শাহনাজ লিখেছেন, “এক পর্যায়ে আসামি বলেন, ‘দেন তো কীভাবে চালায় দেখি’। আমি সরল বিশ্বাসে আসামিকে স্কুটি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে দ্রুত স্কুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি পিছু পিছু ধাওয়া করলেও তাকে ধরা সম্ভব হয়নি।”

শাহনাজের বাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। অনেকেই পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেন দ্রুত ব্যবস্থা নেবার জন্য।

দেশে সম্প্রতি মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং সেবা জনপ্রিয় হলেও নারী বাইকারদের সংখ্যা এখনও অত্যন্ত সামান্য। রাজধানীতে যে কয়েকজন নারী এই সেবার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন, তাদের মধ্যে শাহনাজ অন্যতম। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত।