রাত নামলেই বাড়ি ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে জ্বীন

৪:০৮ অপরাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ১৬, ২০১৯ আলোচিত

ষ্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ :: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে রাতের বেলা একের পর এক বাড়ি ও দোকান ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত এক মাসে একাধিক আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে কাশিয়ানীর শংকরপাশা গ্রামে। আর এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে জ্বীনের কাণ্ডকে।

যদিও এ বিষয়টিকে এলাকার সন্ত্রাসীদের কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন সচেতন মহল। আর পুলিশ বলেছে বিষয়টি তারা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।

জানা যায়, কাশিয়ানী উপজেলার মধুমতি নদী পাড়ের শান্ত, গাছ-গাছালিতে ভরা একটি গ্রাম শংকরপাশা। এ গ্রামের মানুষকে বেশ নম্র-ভদ্র বলেই মনে হয়। অথচ গত এক মাসে এ গ্রামেই রাতের বেলায় দু’টি দোকান-ঘরসহ ৬টি ঘর আগুনে পুড়ে যায়।

যাদের ঘর পুড়ে গেছে তারা হলেন, সিরাজুল মুন্সীর ছেলে শাবু মুন্সীর (৫০) ঘর, সাদেক মুন্সীর ছেলে হাসান মুন্সীর (৬০) দোকান ঘর, সামসুল মুন্সীর ছেলে লিটন মুন্সীর (৪০) দোকান ঘর, মৃত আবুল শেখের ছেলে আনোয়ার শেখ (৪৫)-এর বসতঘর এবং মৃত আবুল শেখের ছেলে মনিরুজ্জামান শেখের (৩২) ঘর আর জিয়া শেথের মেহগনি গাছের বাগান।

কারা এবং কেন এসব ঘরে বা গাছে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তরা তা বলতে পারেন না। তাদের কোন শত্রু নাই এমনটাই তাদের ধারণা।

আবার ওই গ্রামেরই আনোয়ার শেখের বাড়িতে এক রাতেই ৩ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে এবং ভোর রাতের দিকে।

বিস্ময়কর হলেও সত্য এসব ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা কেউ দেখতে পারেনি। এমনকি গ্রামে পাহারা বসিয়েও দুস্কৃতিকারীদেরকে ধরা সম্ভব হয়নি। আর এই সুযোগে এসব কর্মকাণ্ড জ্বীনের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে, এমনটি এলাকায় চাউর হয়ে গেছে। সুকৌশলে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে এই ঘটনার সাথে জ্বীন জাতিকে জড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছে সচেতনমহল।

১নং শংকরপাশা রাতইল ইউনিয়নের মেম্বার মিরাজ শেখ বলেন, এই ঘটনার কিছুই আমরা বুঝতে পারছিনা। কেন যে আগুন ধরছে। এই নিয়ে গ্রামবাসী মিটিং করেছে। অপরাধীদের ধরার চেষ্টা করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। এর পর আবার আগুন লাগে। আমরা দল বেধে পাহারার ব্যবস্থা করেছি। তবুও কোন ক্লু পাইনি।

অপরদিকে, গ্রামটির নিরীহ এলাকাবাসীর রাত কাটছে অনেকটা শংকার মধ্যে। রাতের বেলায় ঘুমাতে পারছেন না কেউ। কখন কার বাড়িতে আগুন লেগে যায় এই ভয়ে ভয়ে প্রতিটি রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগি ও এলাকাবাসী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দায়ের না করলেও আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। দোষীরা যেই হোক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।