সংবাদ শিরোনাম

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্তরোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জা

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ডালের বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত রাজবাড়ীর নারীরা

৪:১৫ অপরাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ১৬, ২০১৯ ঢাকা

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: ভোজন রসিক বাঙালির নানা রকম খাবারের মধ্যে জনপ্রিয় একটি খাদ্য হলো ডালের বড়ি। গ্রামগঞ্জের বধূরা আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে তৈরি করেন এ সকল বড়ি সমাহার।

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের গ্রামীণ পরিবেশের অনেক পরিবারে দেখা যায় পারিবারিক পুষ্টি খাদ্য হিসাবে বাহারি বড়ির সমাহার। বিশেষ করে গ্রামের নারীরা লোকায়ত জ্ঞান প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এ সকল বড়ি তৈরি করে থাকেন। শীতকালে গ্রামীণ ঐতিহ্যের বড় অংশ হলো এই বড়ি।

শীত আসলেই আবহমান কাল থেকে গ্রাম-বাংলার প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ডালের বড়ি তৈরীতে ব্যাস্ত হয়ে পরে গ্রামীন নারীরা। অন্যান্য অঞ্চলের ন্যয় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শীতের আগমনের শুরুর সাথে সাথে ডালের বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে নারীরা।

মাসকলাই ডাল ও চালকুমড়া মিশিয়ে এ সুস্বাদু বড়ি তৈরি করা করেন নারীরা। নারীরা শত শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য কয়েক মাস আগ থেকে চাহিদা মতো চালকুমড়া পাকানোর ব্যবস্থা করেন।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারীরা শীত মৌসুমে নতুন মাসকলাই ও চালকুমড়া ঘরে আসার সাথে সাথে বড়ি তৈরির ধুম পড়ে যায়। মাসকলাই ডালকে পানিতে ৫-৬ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে হাত দিয়ে চটের ছালায় ঘষে ডালের খোসা ছাড়ানো হয়। তারপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে মসলা বাটার শিলপাটা অথবা অন্য যে কোন উপায়ে পিষে পেষ্ট বানানো হয় এবং খুব সকালে পাকা কুমড়াকে লম্বালম্বিভাবে কেটে নারিকেল কুরানি দিয়ে কুমড়োর বিচি আলাদা করে নিতে হয়। এরপর কুমড়ার খোসা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছাড়ানোর পর মিহি করে পেষ্ট বানানো হয়। এরপর মাসকলাইয়ের পেষ্ট ও কুমড়ার পেষ্ট একটি মসলা বাটার শিলপাটা বা পাতিলে নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে সারা রাত রেখে দেওয়া হয়।

পরের দিন ভোর হতে পাতিলে নিয়ে মিশ্রণটি বড়ি তৈরির জন্য হাত দিয়ে ফেনাতে (নাড়াচাড়া) করতে হয়। মিশ্রণ সঠিকভাবে হয়েছে বুঝতে মাঝে মাঝে বড়ির আকৃতির করে পানির পাত্রে ছেড়ে দিতে হয়। যদি তা যদি ডুবে যায় তবে আরও ফেনাতে (নাড়াচাড়া) হয় যতক্ষণ সেটা আংশিক না ভাসে। আংশিক ভাসলে বুঝতে হবে বড়ি তৈরির উপযোগী হয়েছে। এই মিশ্রণটি হাত দিয়ে যতনে বড়ি তৈরি করে রোদে শুকিয়ে পাত্রে ঢেকে রাখা হয়। যেটা স্বাদ অক্ষুন্ন রেখে ২ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির উপজেলার প্রায় সকল গ্রামেই নারীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে ডাল-কুমড়ার বড়ি তৈরি করছেন। উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ময়না রানী, আভা রানী, কল্পনা রানী ও সুনিতা রানী খুবই ব্যস্ত এই বড়ি তৈরীতে।

এ প্রসংগে তারা বলেন, এটা আমাদের একটি ঐতিহ্য। প্রতি বছর শীতকালে আমরা এই বড়ি তৈরি করি। সব ধরনের মাছ ও তরকারীর সাথে এটা রান্না করে খাওয়া যায়। বাড়ির আঙ্গিনায়, ঘরের চালে বা রোদ্রুযুক্ত স্থানে সারিবদ্ধভাবে শুকাতে দিতে দেখা যায়। ডালের বড়ি দেওয়া তরকারি সুস্বাদু হওয়ায় অনেকই এই বড়ি পছন্দ করে থাকেন।

উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি গ্রামের বড়ি প্রস্তুতকারক সবিতা রাণী দাস জানান, মাশকলাইয়ের ডাল ছাড়াও অন্য ডালে তৈরি করা যায় এই ডালের বড়ি। তবে মাশকলাই দিয়ে তৈরী বড়ি বেশী সু-স্বাদু হয়। রোদে মচমচে করে শুকালেই এর ভালো স্বাদ পাওয়া যায়। বড়ি ভালোভাবে শুকাতে ৩/৪ দিন লাগে। এরপর এটা নিরামিশ সহ বিভিন্ন ধরনের তরকারির মধ্যে দিয়ে রান্না করে খেতে মজা হয়।

তরকারিতে এই বড়ি দেওয়ায় তরকারির স্বাদ অনেক গুন বৃদ্ধি ও মজার হয়। যার ফলে এই বড়ির তরকারি অনেকের কাছে প্রিয়। ডালের বড়ি অনেকেই তৈরী করে না তারা কিনে নেয়। অনেকেই নিজেদের তৈরী এই বড়ি আত্বীয়-স্বজনদের বাড়িতে পাঠায়। এই বড়ির চাহিদা থাকায় অনেকেই তৈরী করে বিক্রয় করে। উপজেলায় এই ডালের বড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীন নারীরা ডালের বড়ি বাজারে বিক্রয়ের জন্য তৈরী করে থাকে।

বালিয়াকান্দি বাজার জামালপুর বাজার, বহরপুর বাজার, সোনাপুর বাজার, নারুয়া বাজার, রামদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে এই বড়ি বিক্রয় হয়। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় বিভিন্ন মুদি দোকানেও ডালের বড়ি কিনতে পাওয়া যায়। বর্তমানে ডাল মিহি করার মেশিন আবিষ্কার হওয়ায় কেউ কেউ মিল থেকে ডাল মিহি করে বড়ি তৈরী করে থাকে বলেও জানান তিনি।