বেলকুচিতে চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

৬:৩৩ অপরাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ১৬, ২০১৯ রাজশাহী

উজ্জ্বল অধিকারী, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচির যমুনা চরের কৃষকরা বর্তমানে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে।

এক সময় এই যমুনা নদী ছিল দুঃখের কারণ। আর এখন সেই নদীর বালু চরের বুকে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে অভাব দূর করছেন এখনকার কৃষকরা। অক্লান্ত পরিশ্রম অসম্ভবকে সম্ভব করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন নদী ভাঙ্গা সর্বহারা শত শত গরীব দুঃখী পরিবার।

নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরে ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্নে শীতকালীন সবজি বুনে ঘরে তুলছেন খেটে খাওয়া নদী ভাঙ্গা মানুষ। এছাড়াও সবজি চাষ করে লাখ লাখ টাকা আয় করছে তারা।

এক সময় যমুনা নদীর ছোবলে ভেঙ্গে গিয়েছিল এখনকার মানুষের ভিটেমাটি, জেগে ওঠা চর এখন চির সবুজের সমারোহ। এইতো কয়েক বছর আগে যেখানে ছিল বালুচর, যমুনা নদীর গ্রাসে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার।

আর এখন তা দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে যমুনা নদীর চরের বসবাসকৃত খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য। বালুচরে বন্যায় পলিমাটি জমে উঠায় এসব চর এখন উর্বর আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। বালুচরে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ। চলতি মৌসুমে ও শীতকালে পানি থাকে না। নদীর তলদেশ শুকিয়ে জেগে ওঠে বালুচর। অথচ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেই বালুচরে কুমড়া, লাও, টমেটো, পালং শাক, মুলা, আলু, বেগুন, পিয়াজ, মরিচ, শসা, শিম, করল্লাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে সবুজ সমারোহে ভরে তুলছেন কৃষকরা।

বেলকুচি উপজেলার যমুনা নদীর তীর জুড়ে শত শত একর বালুর জমিতে সোহাগপুরের চর, বেন্যবাড়ী, ভাঙ্গাবাড়ী, বেলীরচর, মুলকান্দী, বেলকুচির চর, চাপরী, ক্ষিদিরচাপতী, বড়ধুল, ছোট বড়ধুল, দেলুয়ারচর, রতনকান্দীসহ বেলকুচি ইউনিয়ন ও বড়ধুল ইউনিয়নে প্রায় কয়েক কিলোমিটার জুরে বিভিন্ন জায়গায় চরাঞ্চলের পরিবারগুলো বিশাল বালু চরকে কাজে লাগিয়ে অভাব দূর করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় মোট ৭৬৫ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হচ্ছে। চরাঞ্চলে ৭৫ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে এবং এই বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবজি চাষে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে তারপরেও তাদের অন্যান্য বছরের তুলনায় ফলন ভালো হয়েছে।

বেলকুচি চরের রেজাউল করিম জানায়, এ বছর সবজির ফলন বেশি হয়েছে। লাউ, ফুলকফি, বাঁধাকফি, টমেটো, শিমসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি করে বেশ লাভবান হবে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, আমি চরে শাক সবজির পাশাপাশি গরু, ছাগল পালন করে অনেক টাকা আয় করেছি, বর্তমানে তিনি অনেকটাই স্বাবলম্বী।

সোহাগপুরের চরের অাব্দুল মজিদ জানান, এ বছর সবজির ফলন ভালো হয়েছে। সবজি বিত্রুি করে বেশ অায় হয়েছে। অারো বিক্রি করে বেশ অায় হবে বলে তিনি জানান। বেশির ভাগ সবজির উৎপাদন এখন এখানকার চরাঞ্চলের মানুষ করে এলাকার চাহিদা পূরণ এবং অন্যত্র পাঠায়।

এখানকার খেটে খাওয়া পরিবার বিভিন্ন ফসল চাষ করে অভাব দূর করেছেন। নারীরা তাদের স্বামী, সন্তানকে নিয়ে মাঠে কাজ করে বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছেন, সেই ফসল বিক্রি করে সাফল্য অর্জন করার পাশাপাশি অভাব মোছন করছেন।

এছাড়াও চলতি মৌসুমে বিভিন্ন রবি ফসল চাষ করে চাষিদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। চরের চাষীরা জানান, বালুচরে ফসল ফলানো যাবে এটা কখনো ভাবিনি বর্তমানে ধানের চাষও হচ্ছে চরাঞ্চলে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় এনজিও বিভিন্ন সবজির চারাসহ কৃষি বিষয়ক পরামর্শ পাচ্ছে বলে চরাঞ্চলের মানুষ জানায়।

তবে স্থানীয়রা জানান যে স্থানীয় হাট বাজারের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে তারা আরও লাভবান হবেন। বর্তমানে বালুর জমিতে ফসল রোপণ করে অভাব দূর করার চেষ্টা করছি এবং দিন দিন সফলতার দিকে এগুচ্ছি। তারা আরো জানান, প্রতি বছরই বাড়ছে চাষের পরিধি। সেই সঙ্গে বাড়ছে ফলন। লাভের টাকা হাতে পেয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।

এই এলাকার খেটে খাওয়া কৃষকরা আজ স্বাবলম্বিতা অর্জন করায় তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। নদীর চরে ধান ও সবজি চাষ করে সেটাই প্রমাণ করেছেন খেটে খাওয়া চরের মানুষ। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এইসব চরাঞ্চলের উদ্যমী মানুষ আরো এগিয়ে যাবেন বলে বেলকুচির চরাঞ্চলের মানুষ আশা করছেন। স্থানীয় সব বাজার ঘুরে শীতকালীন সবজির ব্যাপক অামদানি থাকলেও দাম বেশির ক্রেতারা।

বেলকুচি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্যান প্রসাদ পাল জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর সবজি চাষে ফলন ভাল হয়েছে এবং সবজি চাষ করে চাষীরাও লাভবান হয়েছে। সেই সাথে কৃষকদের ভাল ফলনের জন্য কৃষি বিভাগের তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। সর্বপরি কৃষকদের বেশী বেশী সবজি চাষে উৎসাহ ও প্রণোদনা দিলে সবজি চাষে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন কৃষক।