মাত্র ৫ মিনিটেই জানা যাবে অজ্ঞাত লাশের পরিচয়!

১২:৩৮ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২২, ২০১৯ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
sk-22-06'

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- সম্প্রতি মহাখালীর আইসিডিডিআর'বি হাসপাতাল এলাকায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছিলেন এক বৃদ্ধ। বনানী থানা পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

নাম-পরিচয় না পাওয়া যাওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল লাশটি। এর মধ্যে 'ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার মেশিন' দিয়ে তার আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। মুহূর্তেই জানা যায় তার পরিচয়- নাম আবদুল মান্নান মুন্সী। বয়স ৬১ বছর। বাবার নাম নাজির উদ্দিন মুন্সী, মায়ের নাম আমেনা খাতুন। মাদারীপুর সদরের মহিষের চর এলাকায় তার বাড়ি। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তার লাশ বুঝে নেন।

বেশ কিছু অজ্ঞাতপরিচয় লাশ এভাবে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ইদানীং। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চলছে এই কার্যক্রম। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে অদূরভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ যন্ত্র ব্যবহার করবে পুলিশ।

এতে লাশ শনাক্তের ক্ষেত্রে জটিলতা কমবে। ৫ মিনিটেই জানা যাবে মৃত ব্যক্তির পরিচয়। এমনকি গ্রেফতারকৃত আসামি মিথ্যা নাম-পরিচয় বললে সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে। এতে মামলার তদন্ত ও সংশ্নিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এই সফটওয়্যার সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে দুই বছরের বেশি সময় লেগেছে। এ সফটওয়্যারটির মাধ্যমে অটো লাইভে পরিচয় শনাক্ত হয়।

তিনি বলেন, যার পরিচয় শনাক্ত প্রয়োজন, ওই সফটওয়্যারের মোবাইল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারের মাধ্যমে প্রথমে তার দুই হাতের মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলের চাপ সংগ্রহ করা হয়।

এটিকে আমরা লাইভ ফিঙ্গারপ্রিন্ট বলি। ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের পর ওই সফটওয়্যারটি তা কনভার্ট করে পিবিআই সদর দফতরে অবস্থিত ‘সেন্ট্রাল অ্যাপ্লিকেশন সার্ভারে’ প্রেরণ করে। পিবিআই সদর দফতর ল্যাব থেকে এ ফিঙ্গারপ্রিন্ট অটো চলে যায় নির্বাচন কমিশনে রক্ষিত ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডাটাবেজে’। এর পর রিড করতে শুরু করে।

মুহূর্তেই খুঁজে বের করে ওই ব্যক্তির ছবি, ঠিকানাসহ সব তথ্য নিয়ে চলে আসে পিবিআই সদর দফতরের ল্যাবে। এখানে রেকর্ড জমা রেখে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যেখান থেকে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে চলে যায়। জানিয়ে দেয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচ হয়েছে। এভাবে মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে আমরা কাজটা সারতে পারি।