• আজ সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৩ মে, ২০২২ ৷

হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা দূর করবে যে সকল খাবার

sastho
❏ রবিবার, মার্চ ২৪, ২০১৯ আপনার স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক: যেসব অঞ্চলে আয়োডিনের অভাব রয়েছে সেখানে আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা যায়। নবজাতকের মধ্যে থাইরয়েড গ্লান্ড তৈরি না হলে কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম হয়। এ ছাড়া চিকিৎসাজনিত কারণেও এই অসুখ হতে পারে। অপারেশনের কারণে থাইরয়েড গ্লান্ড বাদ দিতে হলে বা অন্য কারণেও থাইরয়েড নষ্ট হয়ে গেলে এই সমস্যা হতে পারে।

হাইপোথাইরয়েডিজম কি?

‘হাইপো’ শব্দের অর্থ কম। যখন কোন কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করে তখন তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে।

লক্ষণ

ওজন বেড়ে যাওয়া।
অবসাদগ্রস্ততা, ঘুম ঘুম ভাব।
ঠাণ্ডা একদমই সহ্য করতে না পারা।
হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া।
উচ্চ রক্তচাপ হওয়া।
বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
গলগ দেখা যাওয়া।
চামড়া ও চুল শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যাওয়া।
কানে কম শোনা বা একদমই না শোনা।
স্নায়ু ও মাংসপেশী নির্ভর রিফ্লেক্স কমে যাওয়া।
মাংসপেশীতে প্রচন্ডচাপ ও ব্যথা অনুভব করা।
অনিয়মিত মাসিক ও মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত।
মুখ ও পা ফুলে যাওয়া।
কোষ্ঠকাঠিন্য।
বন্ধ্যাত্বতা।
যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া।
স্বরের কোমলতা কমে যাওয়া, কন্ঠ ভারী ও কর্কশ শোনানো।
পেটে পানি জমা।

উপরের কয়েকটি লক্ষণ একসাথে দেখা দিলেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন এবং কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হোন আপনি হাইপোথাইরয়েডিজম এ ভুগছেন কি না।

হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা মোকাবেলায় কিছু খাবার –

নারিকেল তেল

নারিকেল তেলের মধ্যে রয়েছে মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি-এসিড। এটি থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি পূরণ করে। নারিকেল তেল থাইরয়েড হরমোন বৃদ্ধি করে, খাবার দ্রুত পরিপাকে সাহায্য করে এবং এতে বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে অবসাদগ্রস্ততা দূর করে। নারিকেল তেলকে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রতিদিন ৩ চামচের বেশি নারিকেল খাওয়া যাবে না।

সামুদ্রিক শৈবাল

নামটি অপরিচিত শোনালেও এখন আমাদের দেশে সামুদ্রিক শৈবালের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অধিকাংশ শৈবালেই সামুদ্রের পানির চেয়েও বেশি আয়োডিন রয়েছে যা ওষুধ বা লবনের বড় বিকল্প হতে পারে।

আয়োডিনযুক্ত খাবার

আয়োডিনের ঘাটতি মেটাতে আমরা আয়োডিনযুক্ত লবন খেয়ে থাকি। কিন্তু অতিরিক্ত লবন উচ্চ রক্তচাপের কারণ হওয়ায় চিকিৎসকরা লবন পরিহার করতে বলে থাকেন। তাই লবনের পরিবর্তে সামুদ্রিক মাছ যেমন – লইট্টা, কোরাল প্রভৃতি খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া চিংড়ি, টুনা মাছেও প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন থাকে। সেদ্ধ ডিম, কলা, দানা জাতীয় শস্য, শাকপাতাতেও প্রচুর আয়োডিন। তাই এসব ও খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

ফলমূল ও শাকসবজি

ফলমূল ও শাকসবজিতে থাকে ভিটামিন, মিনারেলস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা প্রদাহ কমায়। তাছাড়া ফলমুল ও শাকসবজি পুষ্টিকর হওয়ায় আমাদের শরীরের হরমোন ব্যালেন্স করে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে, এমনকি হার্টের সুরক্ষায় ও এর গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশুদ্ধ পানি

পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং পরিপাক ক্রিয়া সচল রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীরের দুর্বলভাব দূর করতে এমন কি সুগারের প্রতি আসক্তি কমাতে প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর কমপক্ষে একগ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।

গরু অথবা মুরগির স্টক

আমরা রান্নাতে বিফ ও চিকেনের যে স্টকটি ব্যবহার করি তাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো এসিড এল-প্রোলিন ও এল-গ্লাইসিন থাকে যা থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। তাছাড়া শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মাংসপেশীর ব্যথা দূর করে।

হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা মোকাবেলায় যে খাবারগুলো খাবেন না –

চিনিযুক্ত খাবার

চিনি ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তাই চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

পাস্তুরিত দুধ ও দুধজাতীয় খাবার

থাইরয়েড সমস্যা থাকলে পাস্তুরিত দুধ খাওয়া উচিত নয়। এমনকি দুধজাতীয় খাবার যেমন – পনির, দই ইত্যাদি খাবার এড়িয়ে যেতে হবে।

রিফাইন্ড ময়দা

রিফাইন্ড বা মিহি করা ময়দা ও ময়দা জাতীয় খাবার শরীরে হরমোন লেভেলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ওজন বাড়ায়।

কফি

অবসাদ দূর করতে আমরা অনেকেই কফি খেয়ে থাকি। এতে থাকে ক্যাফেইন যা থাইরয়েড হরমোনকে ব্লক করে। তাই আপনি যদি হাইপোথাইরয়েডিজম এ ভুগে থাকেন তাহলে কফির অভ্যাস ত্যাগ করে ফলের জুস খাওয়ার চেষ্টা করুন।

গয়ট্রোজেনাস জাতীয় খাবার

গয়ট্রোজেনাস খাবার যেমন – বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, সয়াসস, চিনাবাদাম, শিম, পালংক শাক ইত্যাদি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না। খেলে রান্না করে খেতে হবে, কাঁচা খাওয়া যাবে না। থাইরয়েড সমস্যা থাকলে এসব খাবার না খাওয়াই ভালো।