গর্ভে পাঁচ মাসের সন্তান নিয়ে নুসরাতের হত্যাকারী মনির কান্ডে হতবাক সবাই

❏ সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ফেনী :: ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে তার দুই সহপাঠী কামরুন নাহার মনি ও জাবেদ হোসেন।

শনিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় তারা।

পরে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, কামরুন নাহার মনি ও জাবেদ হোসেন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত—আর এ ঘটনার সময় বোরকা পরা পাঁচ জনের মধ্যে তারা দুজন।

নুসরাতকে হাত-পা বাঁধার পর মনি ছাদে শুইয়ে গলা চেপে ধরে। আসামি জাবেদ সে সময় নুসরাতের গায়ে এক লিটার কেরোসিন ঢেলে দেয়ার পর ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এদিকে জানা গেছে, কামরুন্নাহার মনির অনাগত সন্তানের বয়স পাঁচ মাস। গর্ভে সন্তান ধারণ করে এরকম একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়ানোয় অবাক হয়েছেন সবাই।

সোনাগাজীর নারী কর্মী মর্জিনা আক্তার জানান, কামরুন নাহার মনির পেটে যে সন্তান, সে নিজ থেকে দুনিয়াতে আসতে চায়নি। যে মা তাকে দুনিয়াতে আনতে চেয়েছেন; সেই মা কীভাবে এমন কাজ করতে পারেন? এই সন্তানের কী অপরাধ ছিল? তাকে কেন জন্মের আগে জেল খাটতে হচ্ছে।

রানি গুহ নামে এক শিক্ষিকা জানান, কামরুন নাহার মা হবে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শব্দ মা। প্রত্যেক নারী এক সময় মা শব্দ শোনার প্রতীক্ষায় থাকে। গর্ভে সন্তান আসলে প্রত্যেক মা সব সময় ভালো কাজে লিপ্ত থাকে। কামরুন নাহার মনি ভালো মা-তো দূরের কথা, মানুষের মধ্যেও পড়েন না। গর্ভে সন্তান নিয়ে নৃশংসভাবে আরেকজন মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন মনি। তিনি নারী নামে কলংক।

প্রসঙ্গত, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানেন নুসরাত। আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে পরীক্ষার হল থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।