ফুলবাড়ীতে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায় পাঠদান

⏱ | সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০১৯ 📁 দেশের খবর, রংপুর

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি- কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বড়লই ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় চলছে পাঠদান। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রধান শিক্ষক ভাঙ্গা একটি টিনসেড ঘরে চালাচ্ছেন তার অফিস।

সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়টির গোটা ভবনের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পরেছে। শ্রেণীকক্ষের ভেতরের মূল পিলার ও বিমের পলেস্তারা ধ্বসে পরেছে। ফাঁটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন অংশে। তারপরেও ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি ভাবে বসে পাঠদান করছে।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে তৎকালীন রংপুর জেলার কুড়িগ্রাম মহকুমারের ফুলবাড়ী থানাধীন বড়লই ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৩ সালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত হয় একটি টিনসেড বিল্ডিং ঘর। এরপরে ওই বিল্ডিংঘর সংস্কার করা না হলেও ১৯৯৫ সালে স্থানীয় এক ঠিকাদারের মাধ্যমে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে একটি ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়।

ভবনটি নির্মাণের ২২/২৪ বছর যেতে না যেতেই গোটা ভবনের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পরেছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরের মূল পিলার ও বিমের পলেস্তারা ধ্বসে ধ্বসে পরছে। ফাঁটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন অংশে। ফলে বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।

৫ম শ্রেণীর ফুয়াদ মাহমুদ ও ৩য় শ্রেণীর মুবতাসিন জানায়, বিদ্যালয়ের ছাঁদ ফেটেছে। ভেঁঙ্গে পড়তে পারে। ফলে ভবনে আর আমরা ক্লাস করি না। খোলা আকাশের নীচে ও কোন কোন সময় বারান্দায় ক্লাস করছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র রায় বলেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে সব সময় আতংক থাকতে হয়। মনে হচ্ছে এই বুঝি দুর্ঘটনা ঘটলো। আমরা স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারছিনা। আবার ক্লাসও বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। ভবন নির্মাণ না হওয়ায় আমরা নিরূপায় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালাচ্ছি। তাই কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মানের ব্যবস্থা করে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আশরাফুল আলম জানান, ভবনটির অবকাঠামো অত্যান্ত দূর্বল। যে কোন সময় বরিশালের মত দুঃখ জনক ঘটনা ঘটতে পারে। জরুরী ভিত্তিতে এই ভবনটি ভেঙ্গেঁ পুন:নির্মানের জন্য কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

স্থানীয় অভিভাবক আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিভিন্ন সময় স্কুল ভবন সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কম।

সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া খাতুন জানালেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস নিচ্ছি। জানিনা কখন দূর্ঘটনার শিকার হই।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম বলেন, ভবন ঝুঁকিপূর্ণের বিষয়টি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভবনের বিষয়টি অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।