• আজ রবিবার,২৬ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ৯ মে, ২০২১, রাত ১০:২৯

কেরোসিন গায়ে ঢেলে আমরণ অনশনে ইবি শিক্ষার্থীরা!

❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ শিক্ষাঙ্গন
onson

ইবি প্রতিনিধি- কেরোসিন তেল গায়ে ঢেলে অবস্থান কর্মসূচী, মিছিল, মানববন্ধন, আমরণ অনশন, মেইন গেট অবরোধ করেছে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ ও ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। বেতন, পরিবহন, হল, সেশন ও ভর্তি ফিসহ অন্যান্য ফি কমানোর দাবিতে মঙ্গলবার ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখে তারা।

আন্দোলনকারী সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি ফিসহ অন্যান্য ফি ৪গুন বৃদ্ধি করে সাড়ে ৩হাজার থেকে ১৪ হাজার করা হয়। এখন প্রতি বছর সাড়ে ৯হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে। যা আগে ছিল ৩ হাজার। এসব কারনে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচী, প্রশাসন বরাবর স্মারকলীপি প্রদান সহ নানা কর্মসূচী পালন করেছে। এরপরেও প্রশাসন থেকে কোন আশ^াস না পেয়ে তারা মঙ্গলবার চূড়ান্ত আন্দোলনে নামে।

সকাল সাড়ে নয়টায় ডাইনা চত্ত¡র থেকে মিছিল বের করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ১০টার দিকে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা। সেখানে কয়েক ঘন্টা অবস্থানের পর দুপুর ১ টার পর মেইন গেট অবরোধ করে তারা।এসময় ২ জন শিক্ষার্থী গায়ে কেরোসিনঢেলে প্রতিবাদে নামে। এসময় তারা বাবার রক্ত যদি সেই চুষতে হবে, প্রাইভেট না হয়ে পাবলিক কেন তবে?, ছাত্রের টাকায় বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন নয়, হৈ হৈ রৈ রৈ এত টাকা গেল কই, এক দফা এক দাবি বেতন ফি কমাতে হবে এসব ¯েøাগান দিতে থাকে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ ও প্রক্টর(ভারপ্রাপ্ত) এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. আনিছুর রহমান ও সাবেক প্রক্টর প্রফেসর মাহবুবর রহমান উপস্থিত হন। আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। এসময় আন্দোলনকারী এক ছাত্রী জ্ঞান হারালে তাৎক্ষণিক তাকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

এদিকে প্রশাসন ভবনের সামনে ২০১৭-১৮ ও ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে নামে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা এ অনশন অব্যহত রাখে। অনশনকারীদের দাবি, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি আদায় না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবে। অনশনে অংশগ্রহনকারী চারজন শিক্ষার্থীই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকেও বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।এদিকে মেইন গেটের সামনে অবস্থান করার কারণে বিশ^বিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও শৈলকুপা রুটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বহনকারী গাড়িগুলোর বন্ধ করে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত ) ড. আনিচুর রহমান আন্দোলনকারীদের ১০জন প্রতিনিধিকে ভিসির সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিলে প্রত্যাখান করেতারা। সব আশ^াসকে উপেক্ষা করে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মেইন গেট অবরোধ করে রাখে তারা। পরে সর্বশেষ বিকেল সাড়ে তিনটায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দীন আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, আগামীকাল বেলা ১১ টায় ভিসির স্যারের উপস্থিতিতে সকল ডিন, বিভাগীয় সভাপতিও প্রভোস্টদের নিয়ে এ ব্যাপারে আলোচনা হবে। তখন শিক্ষার্থীরা বেলা ১২ টার মধ্যে দাবি আদায় না হলে আবার কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়ে আন্দোলন শেষ করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্র্র্র্থী পিয়াস পান্ডে বলেন, প্রশাসন যেহারে বিভিন্ন ফি বৃদ্ধি করেছে এত টাকা বহন করা আমাদের মতো নি¤œবিত্ত-মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারনে আমাদের অনেক বন্ধু ফরম পূরণ করতে পারছে না। এসকল ফি না কমানো পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনকে আমরা আগামীকাল ১২ টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলাম।

এদিকে সকাল সাড়ে দশটা হতে পরমানু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ আলী বিজ্ঞান ভবনের সামনে আমরণ অনশনে নামে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে প্রায় ৫ মাস আগের থেকে তারা অবস্থান কর্মসূচী, প্রশাসন বরাবর স্বারকলীপি প্রদান করলেও অনুষদীয় ডিন কিংবা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোন আশ^াস পাইনি বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। পরে তারা দাবি আদায়ের জন্য দীর্ঘক্ষণ যাবতডিনের কার্যালয় অবরোধ করে রাখে। পরে ডিন অফিসেতালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এসময় অফিসে অবস্থানরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে আটকা পড়ে যায়।আন্দোলনকারী ৫ বিভাগের শিক্ষার্থীরা সব ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে এ আমরন অনশনে নামে। অনশনে অংশগ্রহন করে সৈকত নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির বিষয়ে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন, এটা একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসতে হবে। ফ্যাকাল্টি মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপিত হলে পরবর্তীতে আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব।