মেরিন ড্রাইভ সড়ক বন্ধ, সৈকতের উপর যাতায়তে বাড়ছে নানা হুমকি

⏱ | বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ 📁 চট্টগ্রাম, দেশের খবর

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার প্রতিনিধি- কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংযোগ সড়কটি সংস্কারের জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বন্ধ থাকায়, বিকল্প সড়ক হিসেবে সৈকতের উপর দিয়ে যান চলাচলে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র। যাতায়তে মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছেন না হাজারো শিক্ষার্থী।

হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সমুদ্রতীরবর্তী মেরিন ড্রাইভে যান চলাচল এখন নির্ভর করে সামুদ্রিক জোয়ারভাটার মর্জির উপর। সাগরে ভাটা থাকলেই কেবল মেরিন ড্রাইভ সচল, জোয়ার থাকলে শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। মেরিন ড্রাইভের সাথে শহরের একমাত্র সংযোগ সড়কটি সংস্কারের জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে রাখায় সেই থেকে চলছে এ ভোগান্তি।

এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ছাড়াও কলাতলীর দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী,চাকরিজীবি ও সাধারণ মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। পৌরসভা গত জানুয়ারি মাসের শেষদিকে এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৩ মাসের জন্য কলাতলীর গ্রামীণ সড়কটি সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। যথারীতি ২ ফেব্রুয়ারী থেকে সড়কটি বন্ধ করে দেয়া হলে শহরের সাথে মেরিন ড্রাইভ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

পরে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ মেরিন ড্রাইভের বেইলি হ্যাচারি পয়েন্ট থেকে সমুদ্র সৈকতে ওঠানামার একটি বিকল্প পথ তৈরি করে। একইভাবে কলাতলী পয়েন্টেও মাটি দিয়ে একই ধরনের পথ তৈরি করে। কিন্তু সমুদ্র সৈকত ধরে সনাতনী উপায়ে যানবাহন চলাচল নির্ভর করছে এখন সমুদ্রের জোয়ার ভাটার মর্জির উপর। প্রতিদিন দুইবার সামুদ্রিক জোয়ারের সময় ৪/৫ ঘন্টা করে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে শহরের একাংশের হাজার হাজার মানুষ ও শত শত যানযাহন সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া সমুদ্র সৈকতে চলাচল করতে গিয়ে সামুদ্রিক জোয়ারের ধাক্কায় প্রতিদিন দূর্ঘটনাও ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, সড়ক সংস্করণকাজ শেষ না হওয়ায় বেকায়দায় আছি গত আড়াই মাস ধরে। ঠিকঠাক মত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্কুল ছাত্র রামিম আবরার ও মীর সাব্বির জানায়, আগে স্কুলে যাতায়াত করতে তাদের প্রতিজনকে ভাড়া দিতে হত ৫ টাকা করে ১০ টাকা। আর এখন দিতে হয় চারগুণ বা ২০ টাকা করে ৪০ চল্লিশ টাকা। এছাড়াও ঠিকমত গাড়ি পাওয়া যায় না কিংবা জোয়ারভাটার কারণে ঠিকসময়ে স্কুলে যাতায়াত করতে পারছে না।

কলাতলী হাইস্কুল ও সৈকত কেজি স্কুলের শিক্ষকরা জানান, রাস্তা বন্ধ করার পর থেকে অসংখ্য শিশু স্কুলে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

পর্যটন ব্যবসায়ী শামসুল হক বলেন, পর্যটকদের আগমন না থাকায়, মেরিন ড্রাইভের অর্ধশতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার পর্যটক ছাড়াও প্রতিদিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলাচলকারী দেশ বিদেশের ভিআইপিসহ স্থানীয় অধিবাসীরা চলাচল করেন। বিশেষ করে কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানীসহ বিশাল এলাকার সাথে শহরের একমাত্র সড়ক যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষের পড়তে হচ্ছে চরম দূর্ভোগের মুখে। অথচ তিন মাসের জন্য সড়কটি বন্ধ করা হলেও গত আড়াই মাসে কাজ হয়েছে মাত্র এক চতুর্থাংশ।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন, বার বার প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তন এবং সড়কের ড্রেইন নির্মানে এলাকাবাসীর জমি না ছাড়ার কারণে প্রকল্পের কাজে এ ধীরগতি। তবে আগামী তিনমাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

ইউজিআইআইটি প্রকল্পের অধীনে অন্য আরো দুটি সড়কের সংস্কার কাজসহ প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কারের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভা মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে মেরিন ড্রাইভ সড়কের ২৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমি আশাবাদী আগামী ১ মাসের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে এবং বর্ষার আগেই গাড়ি চলাচল করতে পারবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, কলাতলী থেকে মেরিন ড্রাইভ যে সংযোগ সড়ক সেটির কাজ চলমান আছে। পৌরসভা এটার বাস্তবায়ন করছে।

এখানে দুজন কন্ট্রাক্টর কাজ করছেন। আমরা দুজন কন্ট্রাক্টর নিয়ে পৌরসভার সাথে বসেছিলাম এবং তারা আমাদের কথা দিয়েছেন এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে দেবেন।