স্কুলছাত্রীকে নিয়ে মসজিদের ইমাম উধাও!


❏ বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, নোয়াখালী- নোয়াখালী সুবর্ণচরে পূর্ণিমা আক্তার (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন নুরুল আলম (৩৮) নামে মসজিদের এক ঈমাম। ওই ঈমাম ৩ সন্তানের জনক বলে জানা গিয়েছে।

নুরুল আলমের পৈত্রিক বাড়ী নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডরচর ইউনিয়নে। সে দীর্ঘ বছর ধরে সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামে থেকে ওই গ্রামের হাজী দুদা মিয়া জামে মসজিদের ঈমামতি ও আল আমিন বাজার মাদ্রাসার শিক্ষকতা করতেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নুর আলম চরজব্বর গ্রামের মো. ফারুকের মেয়ে স্থানীয় সুবর্ণচর গার্লস স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্নিমা আক্তারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত ২১ এপ্রিল শবে বরাতের রাতে অজানার উদ্দ্যেশ্য পাড়ি জমায়। সে থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে পূর্ণিমার বাবা ফারুক জানান, তারা প্রাথমিকভাবে মেয়ে হারানো গেছে মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এবং তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন, নুর আলম তার মেয়েকে কোর্টের মাধ্যমে বিয়েও করেছেন।

এদিকে নুর আলমের বর্তমান স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সে সমাজের ইমাম ছিল, সে এমন কাজ করবে আমি ভাবতেও পারিনে, কিছুদিন যাবৎ তার এমন কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে সে আমাকে প্রায় মারধর করে। এসব বিষয়ে প্রায় আমাকে শারীরিক নির্যাতন করতো, আমার বাবাও একজন আলেম এবং একটি মসজিদের ইমাম। আমি মানসম্মানের ভয়ে মুখ খুলিনি। বর্তমানে পূর্ণিমার পরিবার আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এখন আমি নুরল আলমের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তিনি বলেন, আমার ৬ বছর বয়সী এক সন্তান মারা গেছে বর্তমানে ৪ বছর বয়সের সিয়াম নামের আরেক সন্তান বড় হচ্ছে এবং ৩ মাসের অনাগত সন্তান আমার পেটে এই অবস্থায় আমি কোথায় যাবো, কি করবো বুঝতে পারছি না।

চরজব্বর থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহীম খলিল বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, মেয়ের বাবা একটি জিডি করেছেন। আমরা মেয়েটিকে উদ্ধার ও নুর আলমকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।