• আজ শনিবার, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৫ মে, ২০২১ ৷

হবিগঞ্জের সড়কে অটোরিকশা আছে ৮হাজার ২০০, বৈধ কাগজ আছে মাত্র ৪৫০টির!

auto
❏ শুক্রবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৯ সিলেট

মঈনুল হাসান রতন,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জে সড়ক সমূহে বাড়ছে রেজিষ্ট্রেশন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও ইন্সুরেন্স সনদপত্র বিহীন গাড়ির সংখ্যা। রেজিষ্ট্রশনকৃত গাড়ির মধ্যেও সিংহভাগ গাড়িরই ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও ইন্সুরেন্স সনদ নেই। আইন অমান্য করে এসব গাড়ি প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগসাজেসের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে রাস্তায় চলাচল করছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্মকর্তাদের।

হবিগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘হবিগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকৃত সিংহভাগ গাড়িরই ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও ইন্সুরেন্স সনদপত্র নেই। এই জেলায় রেজিষ্ট্রেশনকৃত সিএনজি অটোরিক্সা ৮২০০টি। এর মধ্যে ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী মাত্র ৪৫০টি অটোরিক্সার মালিক বিআরটিএ অফিসে কাগজপত্র হালনাগাদ করেছেন। এই হিসেবে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব এখনো পাওনা রয়েছে সরকারের।তিনি বলেন, এতো শুধু গেল সিএনজি অটোরিক্সার কথা। বাস, ট্রাকতো কখনোই কোনো ধরনের সনদপত্র নিতে এখানে আসে না। অথচ ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক যখন এক্সিডেন্ট করে তখন সেই দায় নিতে হয় আমাদের। এখন আমাদের অফিসে না আসলে তো আমরা গিয়ে তাদের ধরে আনতে পারবো না। সেই ক্ষমতা আমাদের দেওয়া হয়নি। ভ্রামমান অভিযানের ক্ষমতাও আমাদের নেই। যদি প্রশাসন উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা অবৈধ আনফিট গাড়ি চিহ্নিত করতে তাদের সহযোগিতা করতে পারি। অভিযোগ রয়েছে, হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সড়কে এসব অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলের জন্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগসহ বিভিন্ন শাখায় উৎকোচ দেন অটোরিক্সা চালকরা। যার জন্য গাড়ির ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও ইন্সুরেন্স সনদপত্র নবায়নের প্রয়োজন পড়ে না চালক বা গাড়ির মালিকদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন অটোরিক্সা চালক বলেন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও ইন্সুরেন্সের কাগজ আনা অনেক ঝামেলার কাজ। এসব করা লাগে না। পুলিশরে টাকা দিলেই হয়। আমরা নিয়মিত পুলিশকে টাকা দেই। তাই গাড়ি ধরে না। এদিকে দ্রুত এসব অবৈধ গাড়ীর বিরুদ্ধে মামলাসহ থানায় ডাম্পিং কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরী বলে মত বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের।

বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. নুরুজ্জামান বলেন, র্দীঘদিন যাবত ফিটনেস পরীক্ষা না করা এসব গাড়ী সড়কে চলাচলের জন্য অনেক বিপদজনক। শুধু তাই নয়, প্রতিবছর গাড়ির এসব কাগজপত্র নবায়ন না করার ফলে কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি সরকারের এপিএ চুক্তি মোতাবেক রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছি না আমরা।

তিনি বলেন, যেখানে আমাদের এসব গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষাসহ কাগজপত্র নবায়ন করতে ব্যস্ত সময় পার করা কথা সেখানে আমরা সারা মাসে প্রায় ১৫টি মোটর সাইকেলের কাগজ বা লাইসেন্স নবায়ন করি। গাড়ির চালক বা মালিকদের এসব কারচুপি সরকারের রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতেও বাধাগ্রস্থ করছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলায় যানবাহনের মধ্যে শুধুমাত্র অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সাই আছে ৭ হাজার ৭৫০টি। ট্রাফিক বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যদি যথাযথ ভাবে তাদের কাজ করতেন তাহলে এত সংখ্যাক অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সা সড়কে চলাচল করতে পারতো না। তাই এসব অবৈধ যানবাহন যেন সড়কে চলাচল করতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

হবিগঞ্জ জেলার যানবাহনগুলোর রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও ইন্সুরেন্সের কাগজপত্র নবায়নের ব্যাপারে সাহায্য চেয়ে গত ১০ এপ্রিল বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. নুরুজ্জামান পুলিশ সুপার বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করেন। এছাড়া এ ব্যাপারে জেলা আইনশৃংখলা মিটিংসহ বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসনকেও অবগত করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণে এসব অবৈধ্য যানবাহন সম্পর্কে কোনো ব্যাস্থা গ্রহন করা যাচ্ছে না বলে জানান বিআরটিএর কর্মকর্তারা।এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা (বিপিএম-সেবা) বলেন, হবিগঞ্জ জেলা সার্কেলে কাগজপত্র বিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল প্রসঙ্গে বিআরটিএর পক্ষ থেকে একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। বর্তমানে আমাদের ট্রাফিক পক্ষ চলছে। তাই এই ব্যাপারে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। যানবাহনের মালিক শ্রমিকদের সাথে মিটিং করেছি। তাদেরকে এসব ব্যাপারে সচেতনতামূলক মেসেজ দেওয়া হয়েছে। ৩০ তারিখ পর্যন্ত আমাদের ট্রাফিক সপ্তাহ চলবে। এর ভিতরেই আমরা প্রসিকিউশনে গিয়ে এসব অবৈধ গাড়ির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরতদের সাথে অবৈধ গাড়ির চালক বা সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগসাজেশের ব্যাপারে পুলিশ সুপার বলেন, আমার জানা মতে পুলিশের কারো এ ব্যাপারে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। হবিগঞ্জে পুলিশ বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আমি যেরকম আলিফের মত সোজা ঠিক তেমনি আমার পুলিশ বিভাগের প্রতিটি সদস্য সোজা। আমরা কোনো ধরনের দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দেই না। তাই এ ব্যাপারে যদি পুলিশ বিভাগের কারো ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে অব্যশই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সমাজে শেলটার প্রেকটিসের অভ্যাস সবারই আছে। তাই সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, আমলাসহ অনেকেই মাঝে মধ্যে এসব ব্যাপারে সহযোগিতা চান। তখন বিভিন্ন কারণে তাদের সহযোগিতা করা হয়। তবে বড় ধরণের কোনো ঘটনায় কোনো আমরা ছাড় দেই না।