🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

এবার বাংলায় লিখা আইএস'র 'অশনিসংকেত'! হামলার আশংকা, বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গে?

বাংলায় লিখা আইএস'র হুমকি
❏ শনিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

সময়ের কণ্ঠস্বর, আন্তর্জাতিক ফিচার ডেস্ক- এবার কি তাহলে বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গে হামলার পরিকল্পনা করছে আইসিস? ইসলামিক স্টেটকে সমর্থনকারী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একটি পোস্টার কিন্তু সেরকমই ইঙ্গিত করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে। । ওই পোস্টারে বাংলা হরফে লেখা, 'শীঘ্রই আসছি, ইনশাল্লাহ...'।

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার পর থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই চাউর হয়েছে জঙ্গি সংগঠন আইএস'র কতৃক বাংলায় 'শীঘ্রই আসছি ইনশাআল্লাহ' লিখা একটি টেলিগ্রাম বার্তা বা পোস্টার নিয়ে এবার। প্রকাশিত এই পোস্টারটি নিয়ে কড়া সতর্কতার সাথে ইতমধ্যে নড়ে চড়ে বসেছে নিরাপত্তা সংশ্লিস্টরা। বৃহস্পতিবার রাতে এই পোস্টারটি প্রকাশিত হয়। মুরসালাত নামে আইসিস-এর একটি শাখা সংগঠনের লোগো রয়েছে পোস্টারের গায়ে। শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থা এই পোস্টারটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও নিশ্চিত করেছে, তারা এই পোস্টারটি দেখেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিচ্ছে তারা।
শ্রীলঙ্কায় গত রোববার ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে চালানো হামলায় স্থানীয় জঙ্গি দল তৌহিদ জামাতের মাধ্যমে সিরিজ বোমা হামলা চালায় আইএস।

জঙ্গিবাদ বিশ্লেষকদের ধারণা, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা আছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের প্রকাশিত সংবাদে জানায়, ' আইএস সমর্থক টেলিগ্রাম চ্যানেলে ‘শিগগিরই আসছি’ লেখা একটি পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার একাধিক গীর্জা ও হোটেলে ভয়াবহ হামলায় আড়াই শতাধিক নিরপরাধ মানুষকে হত্যার দায় স্বীকারের পর এবার বাংলাদেশে অথবা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট আইএস।

ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি এই খবরের বিষয়টি যাচাই করে খবরের সত্যতা প্রকাশ করেছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত পোস্টারে “আল মুরসালাত” নামক একটি গ্রুপের লোগো চিহ্নিত রয়েছে। ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি পোস্টারটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে, যেহেতু শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসবাদী হামলার এক সপ্তাহও এখনও অতিক্রান্ত হয়নি। স্থানীয় ইসলামী জঙ্গি সংগঠন ত্বহিদ জামাতকে হাত করে আইএস হামলা চালিয়েছিল বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে এই পোস্টারটি বের করা হয়। মুরসালাত নামে আইসিস-এর একটি শাখা সংগঠনের লোগোও রয়েছে পোস্টারের গায়ে। শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থা এই পোস্টারটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

এই খবরের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্যা নিউজ বাংলা আজ শনিবার তাদের প্রকাশিত সংবাদে আশংকা প্রকাশ করে লিখেছেন, 'প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই ইসলামিক স্টেটের শক্তিশালী উপস্থিতি প্রমানিত হয়েছে। ইসলামিক স্টেটের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত এই দলটি বাংলাদেশে জেএমবি বা জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ নামে পরিচিত, যার কয়েকটি ভারতেও সমানভাবে সক্রিয়। জেএমবি চক্রের হদিস ভারতেও ইতিমধ্যে কয়েকটি জায়গায় পাওয়া গিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা ভারতে ঢুকে স্লিপার সেলের কাজ করছে। '

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই কলকাতার বাবুঘাট থেকে আরিফুল ইসলাম নামে জেএমবির এক চাঁইকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দারা। ২০১৮ সালে বুদ্ধ গয়া বিষ্ফোরনে ধৃত ব্যক্তির হাত ছিল বলে জানা গিয়েছে। এর আগে নিম্ন আসাম থেকে কয়েকজন সক্রিয় জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। বহুদিন ধরেই আসামে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির চালিয়ে যাচ্ছিল তারা।

ভারতীয় গনমধ্যম 'এই সময় জানায়, 'এর আগে আমেরিকার গোয়েন্দা এজেন্সি এফবিআই বর্ধমান স্টেশন থেকে ধৃত আইসিস-জেএমবি জঙ্গি মোহাম্মদ মুসিরুদ্দিন বা মুসাকে গ্রেফতার করে জেরা করে। ২০১৪ সালে খাগড়াগড় বিষ্ফোরনে যুক্ত জেএমবি জঙ্গি আমজাদ শেখের সাথে মুসার যোগাযোগ ছিল বলে প্রমান পাওয়া যায়। তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলায় দীর্ঘদিন মুসা গা ঘাটা দিয়েছিল মুসা। দুই বছর আগেই রাজ্যের কিছু জেলায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠনের পোস্টার প্রকাশ্যে আসে, যেখানে স্থানীয় যুবকদের এই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হয়।'

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েকজন জেএমবি সদস্যকে আটক করে সেদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেএমবির ভারত শাখা।

এর আগে ইস্টার সানডের সন্ত্রাসী হামলার পর ইসলামিক স্টেট (আইএস) একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার দায় স্বীকার করে। ওই ভিডিওতে হামলায় অংশ নেওয়া সাত জনসহ জাহরান হাশিমকে আইসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে দেখা যায়।

তবে ভিডিওতে একমাত্র জাহরান হাশিম ছাড়া অন্যদের মুখ ঢাকা ছিল। তাদেরকে সেদিনের আত্মঘাতী হামলাকারী বলে মনে করা হচ্ছে।

২১ এপ্রিল সকালে শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে ৩টি গির্জা ও ৩টি পাঁচ তারকা হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় নিহত হয় ২৫৩ জন। এ ঘটনায় আহত হন ৫শ’রও বেশি।

হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর তার দায় স্বীকার করে বার্তা প্রকাশ করেছিল আইএস। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই চালানো ওই হামলায় ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে হত্যা করে। আর অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরেরদিন ভোরে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে বাকি জিম্মি উদ্ধার করা হয়। তবে হামলায় জড়িত পাঁচ জঙ্গি এবং ওই রেস্তোরাঁ কর্মী সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নিহত হয়।