সংবাদ শিরোনাম

পণ্যবাহী ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১খালেদার জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, হয়নি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তওপ্রধানমন্ত্রী কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কিছু করেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমির্জাপুরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনশনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনাস্পুটনিক-৫ টিকা একে-৪৭’র মতো নির্ভরযোগ্য: পুতিনডোপটেস্টো রিপোর্ট: স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্তচাঁদপুরে ঐতিহাসিক বড় মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লির সালাতে ‘জুমাতুল বিদা’ রাঙামাটিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক! আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ : নারীসহ ৯জন আহত

  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ, কর্তৃপক্ষ নিরব!

৩:২৬ অপরাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৯ ঢাকা
jatka

রাজু আহমেদ,ষ্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী থেকে- বছরের নভেম্বর মাস থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ ইঞ্চির নিচে জাটকা ইলিশ শিকার সরকারীভাবে সম্পূর্ণ নিষেধ থাকা স্বত্বেও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নির্বিঘ্নে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ। প্রকাশ্যে ডাকের মাধ্যমে বিপুল পরিমান জাটকা ইলিশ বিক্রি হলেও কেউ দেখার নেই। অজ্ঞাত কারনে নিরব কর্তৃপক্ষও।

পদ্মা নদীর রাজবাড়ী অংশে প্রতিনিয়ত স্থানীয় জেলেরা অন্যান্য মাছের সাথে বিপুল পরিমান জাটকা শিকার করে আসছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ থেকে পরে আলাদা করে দৌলতদিয়া বাজার, দেবগ্রামের অন্তারমোড়, উজানচরের মজলিশপুর, চর করনেশনাসহ বিভিন্ন হাট বাজারে এ মাছ বিক্রি হচ্ছে পানির দামে।

সরেজমিন গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে দেখা যায়, অসংখ্য জেলেরা নৌকাযোগে নদীর বিভিন্ন অংশে মাছ শিকার করছে। স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি পাবনা, মানিকগঞ্জ অঞ্চলের জেলেরাও এসে মাছ শিকার করছে এ এলাকায়।
এসব মাছ নদী থেকেই স্থানীয় কিছু পাইকারী ব্যবসায়ী কিনে নিয়ে তা স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে। অনেকে জেলেরা পাইকারদের নিকট মাছ বিক্রি না করে নিজেরাই বাজারে নিয়ে বিক্রি করছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও তারা তার কোন তোয়াক্কা না করে অবাধে জাটকা ইলিশ শিকার করে বিক্রি করছে দেদারছে ।

দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে খুব সকালে দেখা যায়, স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদার ও আগত খরিদ্দারদের ভিড়ে জমজমাট অবস্থা। বিভিন্ন ধরনের মাছ ডালিতে রেখে হাঁক-ডাক পারছে আড়তদারদের লোকজন। এসময় প্রায় প্রতিটি আড়তদারের ডালিতে জেলেরা ব্যাগ বা ঝুড়িতে করে জাটকা ইলিশ এনে রাখছে আর তাদের মনোনিত লোকজন ওই মাছের ডাক হাঁঁকছে। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ বিক্রি হচ্ছে।

দৌলতদিয়ার আড়তদার দুলাল মিয়ার ডালিতে কয়েক জেলে অন্যান্য মাছের সঙ্গে জাটকা ইলিশ এনে রাখার পর জোরে সরে ডাক হাঁকা হচ্ছে। ১৫০ টাকা কেজি দরে ডাকার পর এক পর্যায়ে মুহুর্তের মধ্যে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে গেল। তাতে অন্তত ৭-৮ কেজি করে প্রায় দুই দফা জাটকা ইলিশ বিক্রি হলো। এসব ইলিশ দ্রুততার সাথে ঝুড়িতে রেখে তার ওপরে ভিন্ন প্রজাতির মাছের ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখলো। প্রতিদিন এরকম ভাবেই জাটকা বেচাকেনা চলছে।

এ সময় ব্যবসায়ী ক্রেতা আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, এই মাছ বাজারেই বিক্রি হবে। নিষেধাজ্ঞা সত্বেও এই মাছ কিনছেন কেন? জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কি করবো ব্যবসা তো ছাড়তে পারব না। তাছাড়া নদীতে অসংখ্য নৌকা সব ধরনের মাছই ধরছে। অন্যান্য মাছের সাথে জাটকা ধরছে। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সতকর্তার সাথে কিনে আবার বিক্রি করছি। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি।

দৌলতদিয়া ঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী নেতা মোহন মন্ডল বলেন, বর্তমানে সব ধরনের মাছের আমদানী কমছে। জাটকা ইলিশ ধরা বা বিক্রি করা নিষেধ হলেও পাবনা ও মানিকগঞ্জের অনেকে অন্যান্য মাছের সাথে এসব মাছ ধরে বাজারে গোপনে এনে বিক্রি করে চলে যাচ্ছে। আমার আড়তে এ ধরনের মাছ এখন পর্যন্ত কেউ আনতে পারেনি। তবে সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সবারই মেনে চলা উচিত।

কয়েকজন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন পদ্মা বা যমুনা নদী থেকে মাছ শিকারের পর কেউ মানিকগঞ্জের আরিচা ঘাটে আবার অনেকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট, বাজার, অন্তার মোড়, মজলিশপুর, করনেশনা এলাকায় অনেকটা প্রকাশ্যে বেচাকেনা করছে। অভিযানের সংবাদ পেলে তারা সবাই লুকিয়ে ভিন্ন পথ বেছে নেয়।

গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ সাংবাদিকদের জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক বছরের নভেম্বর মাস থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ ইঞ্চির নিচে জাটকা ইলিশ শিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কেউ জাটকা শিকার করলে সর্বনিন্ম ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে দুই বছরের জেল হওয়ার বিধান রয়েছে। জাটকা নিধন ঠেকাতে সম্প্রতি কয়েকদফা অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে। জাটকা নিধন ঠেকাতে অতি শিঘ্রই ফের অভিযান চালানো হবে এবং প্রমান পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।