• আজ শনিবার, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৫ মে, ২০২১ ৷

বৈশাখী ঝড়ে উড়েছে চাল, মাস পেরিয়ে গেলেও খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান!

school
❏ রবিবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৯ ঢাকা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পূর্ব উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে বৈশাখী ঝড়। যার ফলে গত প্রায় এক মাস খোলা আকাশের নিচেই ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। গত ২৩ তারিখ থেকে শরু হয়েছে প্রথম সাময়িক পরিক্ষা। খোলা স্থানে পরিক্ষা নেওয়ার নিয়ম নেই। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই স্কুলের পাশের একটি মসজিদের বারান্দায় এক সাথে ৪টি শ্রেণীর পরিক্ষার্থীদের পরিক্ষা এক সাথে নিচ্ছেন স্কুল কতৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পদ্মা নদীর শহর রক্ষা বেড়ি বাঁধের কোল ঘেঁষা নদীর পাড়ে ১৯৭০ সালে অবস্থিত বিদ্যালয়টি অবহেলায় পড়ে আছে প্রয়ায় দীর্ঘ এক মাস। এর স্কুলটি কয়েক বার নদী ভঙ্গনের কলে পরেছিল।

পদ্মা নদী পাড়ের স্কুলটিতে রয়েছে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী। ৭ জন শিক্ষক থাকলেউ কাল বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবার পর দুইজন শিক্ষককে অন্য স্কুলে নিয়ে গেছে কর্তৃপক্ষ।

নদী পাড়ের অবহেলিত স্কুলটির ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অধিআংশ ছাত্রছাত্রীই নদীভাঙ্গন কবলিত ও অসহায় গরীব মা বাবার সন্তান। যে কারনে স্কুলটির প্রতি নেই কোন উপড় মহলের সু-দৃষ্টি।

গত ৩১ মার্চ রোববার বিকালের কাল বৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়টির টিনের চাল উড়ে যায়। এ সময় বিদ্যালয়ের ভবনটির দেয়ালেরও ক্ষতি হয়েছে।

যে কারনেই বিদ্যালয়টির অফিস কার্যক্রম ও পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিন পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকলেউ বর্তমানে শিক্ষার মান বজায় রাখতে বিদ্যালয়ের মাঠে গাছের নিচে রোদে পুরে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এতে রোদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী ব্রাঞ্চে ও কিছু শিক্ষার্থী মাটিতে পাটিতে বসে পড়ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ ভবনটি সংষ্কার কাজ চলছে বলে দেখা গেছে।

খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করা শিক্ষার্থীরা জানায়, এভাবে রোদে পুরে বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। দ্রæত স্কুলের চাল ঠিক করে শ্রেনী কক্ষে ক্লাস নিলে ভালো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা খাতুন আন্না বলেন, পদ্মার ভাঙ্গনে কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়টি ভাঙ্গন ঝুঁকিতে ছিলো। এবার গত ৩১ মার্চ রোববারের ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। শ্রেনী কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো পরিবেশ নেই। সে কারনেই কখনো খোলা আকাশ ও গাছের নিচে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। যে কারনে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয় কখন আবার বৃষ্টি আসে। এছাড়া রোদের প্রচন্ড দাপ তো আছেই। তবে ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের মেরামত কাজ চলছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি মেরামত করার জন্য অর্থ প্রয়োজন সে পরিমান অর্থ আমাদের নেই। উপজেলা পলিষদের পক্ষ থেকে মাত্র ২৫হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে যা দিয়ে স্কুলের কাজ সুম্পর্ণ করা সম্ভব হবে না। জেলার সকল মানুষকে এগিয়ে আসার জন্য আহŸান জানান তিনি। দ্রæত সময়ে মধ্যে স্কুলটি মেরাত না করা গেলে শ্রেনী কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারলে ছাত্রছাত্রীদের পড়া লেখার চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোঃ বিল্লাল হোসেন, বলেন, স্কুলের চাল উড়ে গেছে প্রায় এক মাস সময় পার হলেও তেমন কোন মেরামতরে জন্য তেমন ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সামান্য কিছু কাজ করা হলেও কাজের কোন গতি নেই। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে পাশা পাশি আমাদেরও খুব সমস্যা হচ্ছে অনেক কষ্ট করে রোদে পুরে ক্লাস কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ঝড় বৃষ্টি হলেই বাচ্চাদের ছুটি দিয়ে দিতে হয়। ২৩ তারখি থেকে প্রথম সাময়িক পরিক্ষা শুরু হয়েছে যার কারনে বাধ্য হয়ে মসজিদের বারান্দায় পরিক্ষা নিচ্ছি। কিন্তু বাচ্চাদের বসে বসে নিচে বসে পরিক্ষা দিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কারন তাদের অবভাস হলো বেঞ্চে বসে লেখা।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আসজাদ হোসেন আরজু বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ে যে আমাদের স্কুলের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। যে কারনে ছাত্রছাত্রীদের খুব কষ্ট করে ক্লাস করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কষ্ট দূরকরতে স্কুল মেরামত কাজ চলছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে শ্রেণী কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার ব্যবস্থা করা হবে। পড়াশুনার মান বজায় রাখতে খোলা আকাশের নিচে এখন শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।

তবে অভিযোগ রয়েছে স্কুলটির টিনের চাল এভাবে ঝড়ে উড়ে গেছে প্রায় এক মাস পার হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য বা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কেউ স্কুলটি দেখতে আসেনি।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, ঝড়ে বিদ্যালয়ের চাল উড়ে যাওয়ার খবর শোনার পর সরেজমিনে গিয়েছেন। পরক্ষণে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছেন এবং চাল মেরামতের কাজ চলছে।