নির্মা‌নের তিন মা‌সেই নতুন ভব‌নে ফাটল!

❏ রবিবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৯ স্পট লাইট

স্টাফ রি‌পোর্টার, শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপ‌জেলার ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার তিন মাসের মাথায় বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। এ‌তে আত‌ঙ্কে ম‌ধ্যে পাঠদান চল‌ছে শিক্ষার্থীদের। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তদন্ত ক‌রে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দি‌য়ে‌ছে প্রশাসন।

স্কুল সূ‌ত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্র‌তি‌ষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালে। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করে সরকার। এরপর টিনসেট মূল ভবনের পাশে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৩ আওয়তায় এলজিইডি বিভাগ ৭৩লাখ ৮৮হাজার ৪০০ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে।

মেসার্স আব্দুল মান্নান লস্কর নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্কুলের ভবনটি নির্মাণ পায়। চারতলা ভিত বি‌শিষ্ট ভবনটির একতলার নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ভবনটি বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদারি প্র‌তিষ্ঠান। বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকেই ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।

৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার মন্ডল বলেন, ঠিকাদার ভবনটি বু‌ঝে পে‌য়ে শিক্ষার্থীদের ‌নি‌য়ে ক্লাস শুরু ক‌রে‌ছি। কিন্তু এখন ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি। বিষয়‌টি শিক্ষা অ‌ফিস‌কে জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

ঘটনাস্থ‌লে গিয়ে দেখা গে‌ছে, প্রতিটি জানালার কলামে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে । মেঝের ফ্লোর প্লাস্টারগুলো উঠে গেছে। সিঁড়ি ফেটে আলাদা হয়ে পড়েছে। ভবনের দেয়ালেও ফাটল ধরেছে। ভবনের গ্রীলগুলোতে বাসের চটি দিয়ে ফিক দেয়া হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩৮জন শিক্ষার্থী র‌য়ে‌ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও খায়্যেদা আক্তার সুমী বলেন, ভবনটি যেকোনো সময়ে ধসে যেতে পারে। যে ঠিকাদার ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন, তিনি অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আসমা বেগম বলেন, ভবনের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নতুন ভবনটিতে ফাটল ধরার বিষয়ে উদ্ধর্তন কর্মকর্তাকে
জানানো হয়েছে। অ‌নিয়‌মেন বিরু‌দ্ধে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনু‌রোধ ক‌রেন তি‌নি।

এ‌নি‌য়ে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান লস্কররের মোবাইলে ফোন যোগা‌যোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সহকারি ঠিকাদার সোহেল খান বলেন, কাজটি পায় মাদারীপুরের মেসার্স আব্দুল মান্নান লস্কর নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পরে আমার কাছে বিক্রি করে দেয়। আমি এখন ঢাকা আছি। ঢাকা থেকে এসে কথা বলবো।

এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়া বলেন, ঠিকাদার এলজিইডিকে ভবনটি এখনও বুঝিয়ে দেননি। স্কুলের ফাটলের বিষয়টি আমি শুনেছি। আজ বিকেলে পরিদর্শণে যাবো, অনিয়ম পেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষ‌য়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি করেছে এলজিইডি। আমি বিদ্যালয়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন :