ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচনে ভোট গণনা করতে গিয়েই মৃত্যু ২৭২ কর্মীর!


❏ সোমবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: প্রচুর সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়ে থাকেন ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচনে। ইন্দোনেশিয়ায় কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির নির্বাচনে লাখ লাখ ভোট হাতে গুণতে গিয়ে তাদের ২৭০ জনেরও বেশি কর্মী মারা গেছে।

তারা বলছেন, এরা মূলত দীর্ঘ সময় ধরে করা কাজের অতিরিক্ত চাপ থেকে অবসাদজনিত কারণে মারা গেছেন।

দেশটির নির্বাচন কমিশন কেপিইউর একজন কর্মকর্তা ও মুখপাত্র আরিফ প্রিও সুসান্ত বলেছেন, কাজের চাপে তাদের আরো ১,৮৭৮ জন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭ই এপ্রিল। এই ভোট গণনা ও নজরদারিতে সাহায্য করছে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ। অত্যন্ত গরমের মধ্যে তাদেরকে সারা রাত ধরে কাজ করতে হচ্ছে।

২৬ কোটি মানুষের এই দেশটিতে এবারই প্রথমবারের মতো একসাথে প্রেসিডেন্ট, জাতীয় সাধারণ ও আঞ্চলিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই এসব নির্বাচন এবার একসাথে আয়োজন করা হয়। ভোটারের সংখ্যা ১৯ কোটিরও বেশি। আর ভোট কেন্দ্র ছিল আট লাখেরও বেশি।

নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটারদেরও ৮০ শতাংশেরও বেশি এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

বলা হচ্ছে, নির্বাচনী কাজের এসব কর্মীদের বেশিরভাগই অস্থায়ী কর্মী। ভোটারের সংখ্যা ১৯ কোটিরও বেশি। আর ভোট কেন্দ্র ছিল আট লাখেরও বেশি।

নির্বাচন কমিশন কেপিইউর মুখপাত্র বলছেন, তাদের মধ্যে ২৭২ জন মারা গেছে এবং অতিরিক্ত পরিমাণ কাজ-জনিত অসুস্থতাই তাদের মৃত্যুর কারণ। নিহত এসব কর্মীর পরিবারগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন।

বলা হচ্ছে, এর পরিমাণ হতে পারে পরিবার-প্রতি দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার ডলার। এই অর্থ একজন কর্মীর এক বছরের সর্বনিম্ন মজুরির সমান।

সমালোচকরা বলছেন, সবগুলো নির্বাচন একসাথে করে বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়নি সরকার। তারা বলছেন এতো বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্যে প্রয়োজনীয় লোকবলও কর্তৃপক্ষের ছিল না। এখনও ভোট গণনা শেষ হয়নি।

নির্বাচন কমিশন বলছে, প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ করে তারা আগামী ২২শে ফলাফল ঘোষণা করবেন। তবে তার আগে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রাবোভো সুবিয়ান্তো দুজনেই নিজেদেরকে বিজয়ী হিসেবে দাবি করছেন।