বেলকুচিতে নেশার টাকা না দেওয়ায় সিএনজি চালককে কুপিয়ে জখম!


❏ সোমবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৯ দেশের খবর, রাজশাহী

উজ্জ্বল অধিকারী, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নেশার টাকা না দেওয়ায় কৌশলে ডেকে নিয়ে সিএনজি চালককে কুপিয়ে জখম করেছ নজরুল ইসলাম (নজু) নামের এক সন্ত্রাসী ও তার সহযোগীরা ।

আহত সিএনজি চালক আল আমিন সরকার তামাই পশ্চিম পাড়া গ্রামের সোনাউল্লার সরকারের ছেলে।

আহত সিএনজি চালক আল আমিন সরকার জানায়, আমার প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম নজু দুই সপ্তাহ আগে নেশা করার জন্য আমার কাছে টাকা চায়। কিন্তু আমি টাকা দিতে রাজি না হলে গত ২৩ এপ্রিল নজরুল সকাল আনুমানিক ৫ টার সময় আমার বাড়িতে আসে। এসে বলে আমার বন্ধু ইয়ামিনের বউয়ে ডেলিভারী হবে দ্রুত হসপিটালে নিয়ে যাওয়া লাগবে। এরই প্রেক্ষিতে আমি বাড়ি থেকে নজু সহকারে সিএনজি নিয়ে বের হই। বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মরা চন্দনগাতী ব্রিজের পাশে পৌছালে নজু গাড়ি ব্রেক করতে বলে। আমি গাড়ি ব্রেক করে থামালে অতর্কিত ভাবে আমার উপর হামলা চালায় নজু।

এসময় নজরুল আমাকে পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে আঘাত করে। আমার কাছে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আর রাস্তার মধ্যে অবস্থান নেওয়া নজরুলের সহযোগীরা আমার উপর দেশী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তাদের আঘাতে আমি চিৎকার করলে তারা আমাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী আমাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা হসপিটালে ভর্তি করে।

আহত সিএনজি চালক আলামিনের বাবা সানাউল্লাহ সরকার জানান, ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ীতে ফিরছিলাম। বাড়ীর সামনে আসতেই দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিবেশী আবু সাইদ মন্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম নজু বললো চাচা আমার বন্ধুর খুব বিপদ, তার বউয়ের ডেলিভারি হাসপাতালে নিতে হবে। আলামিনকে ডেকে দেন। আমার ছেলেকে ডেকে দেই। আলামিন সিএনজি নিয়ে আসতেই নজু সিএনজিতে উঠে বসেই বললো জামাইপাড়া চল। এই বলে আমার ছেলেকে নজু ডেকে নিয়ে যায়। এরই আধাঘন্টা পর মরা চন্দনগাতী গ্রামের নুরনবী মারফত জানতে পারি আল-আমীনকে কারা যেন মেরে ফেলে রেখে গেছে।

এদিকে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রঞ্জু জানান, আমার সদস্য আল আমিন অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার উপরে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। যদি এই হামলার উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে সিএনজি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বেলকুচি থান অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) নূরে আলম জানান, এখনও পর্যন্ত এরকম কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।