🕓 সংবাদ শিরোনাম

‘করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত বিপদজনক ভবিষ্যতের পূর্ভাবাস’কুতুপালং শিবিরে রোহিঙ্গা নেতার বাসা থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধারহাজারো যাত্রী নিয়ে বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি শাহপরাণ, ঘাট ম্যানেজারের অস্বীকার‘একটা ঈদ বাড়িতে না করলে কী হয়?’কক্সবাজারে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেফতারঝালকাঠির কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া হত্যার বিচার দেখে মরতে চায় বাবা!সৌদিতে বাংলাদেশিসহ সকল প্রবাসীদের করোনা ভেকসিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছেকরোনায় বেসামাল ভারত, একদিনে আরও ৪০৯২ জনের মৃত্যুচীনা রকেটের সেই ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়লো মালদ্বীপের কাছেঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে চলছে দূরপাল্লার বাস

  • আজ রবিবার,২৬ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ৯ মে, ২০২১, বিকাল ৪:০২

লালমনিরহাটে ২ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জন

❏ সোমবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সড়ক দুর্ঘটনায় যেন মত্যুর মিছিল ক্রমশই বেড়ে চলছে। প্রাণ হারাচ্ছে পথচারী, ছাত্র-শিক্ষক, শিশু ও বৃদ্ধ। অনেকে আহত হয়ে বরন করছে পঙ্গুত্ব। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হাড়িয়ে অনেককেই কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন।

এর মুলেই রয়েছে দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অদক্ষ চালোক, বেপরোয়া গাড়ি চালানো আর ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। গত ২ মাসে লালমনিরহাটে প্রাণ হারিয়েছে ১৭ জন। দুর্ঘটনা রোধে পুলিশের ব্যাপক সচেতনতা বিল বোর্ডেও হচ্ছে না রোধ। অনিরাপদ সড়কে যাতায়ত নিয়ে শংকিত পথচারীরা।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। চালকের বে-পরোয়া গাড়ি চালনায় প্রান হারাচ্ছে নিরীহ পথচারীরা। এছাড়াও নিষিদ্ধ হলেও মহাসড়ক গুলোতে ইজি বাইক, নছিমন, করিমন, অবৈধ ট্রাক্টর অবাধে চলাচল করায় সড়ক দূর্ঘটনার বেড়েছে প্রবনতা। প্রশাসনের নিরবতা রোধ হচ্ছে না মহাসড়কে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত যানবাহন। পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা লিফলেট, বিলবোর্ড দিয়েও রোধ হচ্ছে না মরন ঘাতি সড়ক দূর্ঘটনা।

জেলা শহরের সাথে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মহাসড়ক বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়ক। এ সড়কে ৯৮ কিলোমিটার সড়কে বাক রয়েছে ৫৮টি রেল লেবেল কোসিং রয়েছে ১২টি। এসব অবস্থার মাঝেও বে-পরোয়া ট্রাক-বাস চালানোর কারনে ওই সব স্থানে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে তিস্তা সেতু থেকে বড়বাড়ী সড়কে থামছে না সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামুলক বিল বোর্ড ও সভা প্রচার প্রচারনা চালালেও তাতেও রোধ হচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা অকালে ঝড়ে যাচ্ছে তাজা প্রান। নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা রেহাই পাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনার কবল থেকে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার জন্য র‍্যালী ও মানববন্ধন করেও হচ্ছে না রোধ।

লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থল বন্দর থেকে প্রতিদিন কয়েক সহস্রাধিক পন্য বোঝাই ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যান। অধিকাংশ ট্রাক গুলোর ফিটনেসবিহীন। চালকের নেই ড্রাইভিং লাইন্সেস। কাটা ড্রাইভার দিয়ে চলে বাস-ট্রাক। এতে করে ড্রাইভার বে-পরোয়া গাড়ী চালনোর কারনে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়াও মহাসড়ক গুলোতে নছিমন করিমন শ্যালো ইঞ্জিন চালিত যানবাহন চালানোর কারনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান হারাচ্ছে অনেকে।

গত ২০১৮ সালে লালমনিরহাট জেলায় জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী দুই মাসে সড়ক দূর্ঘনায় প্রান হারায় ১০জন। কিন্তু তার পরিবর্তে ২০১৯ সালে ২ মাসে ১৯ টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারায় ১৭ জন। দুই মাসে সড়ক দুর্ঘনায় ১৭ জন নিহতের ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারন পথচারীদের মাঝে।

সর্বশেষ গত ২০ ফেবুয়ারী বড়বাড়ী এলাকায় কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারায় ৫জন সিএনজি যাত্রী, আহত হয় কয়েকজন। এর পর থেকে টনক নড়েছে ট্রাফিক পুলিশের। তারা বিভিন্ন সড়কে জোরদার করেছে ট্রাফিক চেক পোষ্ট।

গত ৪ মার্চ লালমনিরহাট শহরের প্রান কেন্দ্র সার্কিট হাউজ সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় কলেজ ছাত্র ফারুক হাসান রুবেল, ১৯ ফেব্রুয়ারী বাস-মহেন্দ্র মূখামুখি সংঘর্ষে ৫জন নিহত হয়। নিহতরা হলেন- কুড়িগ্রামের নাগরেশ্বরীর সাহাবুল ইসলাম (২৮), আক্কেস আলী (৫০), মোছাঃ শাবানা (৪০), আশিক বাবু (১১), পারমিন খাতুন (১২)।

১১ ফেব্রুয়ারী জেলার পাটগ্রামের বাউড়া বাজার এলাকায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংর্ঘষে মোঃ আরিফ হোসেন (২৮), খোরশেদ হোসেন (৩০) নামের ২ জন নিহত হয়। একই দিনে বড়বাড়ি মোস্তফি মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় অজ্ঞাত (৬০) বছরের এক বৃদ্ধ নিহত হয়। ৩ ফেব্রয়ারী পাটগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় চান মিয়া (৪০) নিহত হয়।

গত ১৯ জানুয়ারী কুড়িগ্রাম-বড়বাড়ী মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় অটো চালক আব্দুল খালেক (৩৮) নিহত হয়। একই দিনে হাতিবান্ধা উপজেলায় ট্রাক-মাইক্রেবাস সংঘর্ষে শফিকুল ইসলাম (৪০) নিহত হয়।

৫ জানুয়ারী আদিতমারী সমাজ সেবা কর্মকাতা শফিকুল ইসলম কাকিনা মহিপুরে মাইক্রাবাসের সংঘর্ষে নিহত হয়। ১ জানুয়ারী জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাইম ব্যাংকের ম্যানেজার শাহিনুর নিহত হয়।

চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও হেলপার দিয়ে ট্রাক চালানোর কারনে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। এ ছাড়াও গত ২ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় লালমনিরহাট জেলায় পঙ্গুত্ব বরন করেছে অনেকেই। কেউ হারিয়েছে হাত কেউ বা পা হারিয়ে অসহায়ত্ব জীবনযাপন করছে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পবিবারে সংসার চালানোর একমাত্র মানুষটি হারিয়ে পরিবার গুলো কষ্টে জীবনযাপন করছে। তাদের দেওয়া হয়নি কোন ক্ষতিপুরণ। সরকারের কাছে ক্ষতিপূরন দাবী করছে সড়ক দুর্ঘনায় নিহত পরিবার গুলো।

হাতিবান্ধার ৫৫ বছরের সালাম মিয়া জানান দুধের শিশু রেখে সড়ক দুর্ঘটনায় চলে গেলে বাবা। ওই শিশুটি বাবু ডাক শুনতে আর পেলো না, এর জন্য দায়ী কে? সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত খোরশেদ আলমের প্রতিবেশী রাশেদ আলম বলেন, সড়কে যখন গাড়ি চালায় চালকরা পাশের মানুষ কে আর মানুষ মনে করে না। খেরশেদ নিহত হওয়ায় তার ৩ বছরের মাসুম শিশু ফারাবি এতিম হয়ে গেছে, কে নিবে খোঁজ এই অসহায় পরিবারটির।

কালীগঞ্জে আসমা বেগম বলেন, ট্রাক এসে ধাক্কা দিলো তার স্বামীকে ঘটনাস্থলে চোখের সামনে মারা গেলো স্বামী এ হত্যার বিচার চাই।

লালমনিরহাটের সিফাত হোসেন মুন্না বলেন, সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত আরিফ আমার দোকানে কাজ করতো সেই আরিফ নিজেই এতিম ছিলেন তার ৫ বছরের শিশু সিফাতের দ্বায়িত্ব কে নিবে?

বুড়িমারীর আছিয়া বেগম জানায়, তার স্বামী চাউল কিনতে বাজারে যায় আমি হাড়িতে পানি তুলি দেই কিন্তু পানি টগবগে উঠলেও পরে শুনি ট্রাক তার স্বামীকে মেরে ফেললো। আমার ৪ বছরের সন্তান এর কি হবে। সন্তার বাবা বাবা বলে ডাকলেও নেই তার বাবা। কে বুঝাবে তাকে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আরো অনেক পরিবারের এ আকুতি লালমনিরহাট জেলায়।

তবে এ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনার বৃদ্ধি ও প্রান হারা কারন হিসাবে ফায়ার সার্ভিস ডিফেন্স এর এ উপ-সহকারী পরিচালক সহিদুর ইসলাম বেপরোয়া গাড়ি চালনা ও মহাসড়কে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত যানবাহনকে দুষলেন। সড়ক গুলোতে বেপরোয়া গাড়ি চলানো বন্ধ না হলে বন্ধ হবে না সড়ক দুর্ঘটনা।

তবে পুলিশ সুপার এস.এম রশিদুল হক জানান সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে, দুর্ঘটনা রোধে আরো ব্যাপক কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, সড়ক দুঘটনা বন্ধে জনসচেতনতামুলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আর যেনো কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ না হারায় সে ব্যপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে সাধারন মানুষ।