প্রত্যাশার রঙে সাজবে বাংলাদেশ, বদলাচ্ছে বিশ্বকাপ জার্সি

❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ খেলা

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- কোটি কোটি ক্রিকেট পাগল বাংলাদেশির মনে আক্ষেপ দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে যাবে টাইগাররা তাই কি আর হয়? আর তাই হয়তো সমর্থকদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জার্সি পরিবর্তন করার ঘোষণা দিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবি’র এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে জনমতের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করা হলো তা মন জয় করে নিয়েছে লক্ষ-কোটি টাইগার ভক্তদের।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন করা হয়। নতুন সেই জার্সির ছবি টর্নেডোর বেগে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সঙ্গে চড়তে থাকে সমালোচনার পারদ।

মাশরাফী-তামিমদের জার্সি নিয়ে সমালোচনা-বিতর্ক মাথাচাড়া দেয় মূলত এর রং ঘিরে। আসছে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে দুই ধরনের জার্সি পরে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। যার অন্যতমটি সবুজ রংয়ের। এটি মুশফিক-মিরাজদের হোম জার্সি বলে বিবেচিত হবে। অন্যটি লাল রংয়ের, যেটি অ্যাওয়ে জার্সি। এই লাল-সবুজ নং নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আপত্তির কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু যখন দেখা গেল সবুজ জার্সিটির মাঝে কোনো লালের রেশ নেই, আবার লাল জার্সিতে একদমই নেই কোনো সবুজের অস্তিত্ব, তখনই আবেগের ঝাঁপি খুলে দিয়েছেন সমর্থকরা।

বিতর্ক তোলা ক্রিকেটপ্রেমীদের আপত্তির জায়গা মূলত সবুজের মাঝে কোনো লালের অস্তিত্ব না থাকা, আর সবুজটাও ঠিক বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সবুজের মতো না হওয়া। সীমাহীন গর্বের মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকা যেমন মাথা উঁচু করে দেয় বাংলাদেশিদের, দেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেয়ার প্রতিজ্ঞা বাড়ায়, সেই লাল-সবুজের মিশ্রণে টাইগারদের জার্সির প্রচলিত যে একটা চল ছিল, সেটি দেখতে না পেরেই প্রচণ্ড ধাক্কা খান সমর্থকরা। নতুন জার্সির সবুজ রংটা আবার পতাকার সবুজের সঙ্গে মানানসই নয় যখন, সবমিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অর্জিত বাংলাদেশে সবুজ জমিনে লাল রক্তিম সূর্যটার অর্থবহ আবেগের প্রতি অসম্মান-অবমাননা ও টাইগার দলের জার্সি-ঐতিহ্যের প্রতি খামখেয়ালির গুরুতর অভিযোগ তুলে বিতর্কে ঝাঁপিয়ে পড়েন ক্রীড়ামোদীরা।

বাংলাদেশের নতুন জার্সির সবুজ রংটার সঙ্গে আবার পাকিস্তানের পতাকা ও তাদের ক্রিকেট দলের জার্সির রংয়ের মিলও খুঁজে পান কেউ কেউ। তাতে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে কয়েকগুণ। কেউ আবার এটিকে আয়ারল্যান্ডের জার্সি বলেও কটাক্ষ করতে থাকেন।

সবমিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোমবার দুপুরের পর থেকে আলোচনার কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে চলে আসে সাকিব-মোস্তাফিজদের বিশ্বকাপ জার্সি। দিনভর সমালোচনা শেষে রাতে দেশের কয়েকটি বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমে আসে বাংলাদেশের জার্সি পরিবর্তনের এই খবর।

পাপন বলেন, ‘দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও সাধারণ দর্শকদের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে জার্সি উন্মোচনের পর জার্সির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টজ জানায়, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি’র গাইডলাইনের পরিপন্থি হওয়ার কারণেই লালের ছোঁয়া রাখা যায়নি সবুজ জার্সিতে।

কিন্তু এমন বক্তব্যেও থেমে থাকেনি সমালোচনা। জার্সিকে কেউ কেউ পাকিস্তানের জার্সির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা পরিবর্তনের আল্টিমেটাম দেন। এমন জার্সি পরে ফটোসেশন করায় খোদ ক্রিকেটারদের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি অনেকে। আরও বেশকিছু কর্মসূচিও ঘোষণা করেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

তবে বিসিবি সভাপতির ঘোষণা অনুযায়ী জার্সি বদল হলে তাতে নিশ্চয় টাইগার ভক্তরা খুশিতে উদ্বেলিত হবেন।