• আজ ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানি কিশোরীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলো আল আমিন

❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বহুল আলোচিত পাকিস্তানী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মূল আসামী ধর্ষক আল-আমিন (২০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোপালপুর আমলী আদালতে তিনি ধর্ষণের কথা শিকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের বিচারক আকরামুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে আল-আমিনের ভাইকেও আদালতে হাজিরা করে কারাগারো পাঠানো হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালপুর থানার এসআই সাদিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে এই দুইজনের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত। পুলিশ তাদের ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়েছিলেন।

এসআই সাদিকুর রহমান বলেন, গত ২৪ এপ্রিল গ্রেফতারকৃত আল-আমিন এবং তার ভাই সুমনের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে রিমান্ডে এনে তাদের দুইজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে আলআমিন ধর্ষণের কথা স্বীকার করে এবং তার দেয়া তথ্যও ভিত্তিতে ভিকটিমের পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

পরে রোববার এই দুইজনের রিমান্ডের সময় শেষ হওয়ায় তাদেরকে আদালতে হাজিরা করা হয়। বিকেলে আল আমিন দোষ শিকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে বিচারক তাদের দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভেঙ্গুলা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর আনুমানিক ২০ বছর আগে পাকিস্তানের নিউ করাচীতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে পাকিস্তানী নাগরিককে বিয়ে করে গামের্ন্টস ব্যবসা শুরু করেন। তাদের নবম শ্রেণীতে পড়–য়া এক মেয়ে রয়েছে। পাঁচ মাস আগে ছয় মাসের ভিসায় কিশোরী মেয়েকে সাথে নিয়ে গোপালপুরে আসেন তিনি। উঠেন উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে।

সেখানে তার কন্যার উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আরেক ভাসুর আবুল হোসেনের পুত্র বখাটে আল আমিনের। কিশোরীকে রীতিমত উত্যক্ত শুরু করে সে। বেশ কয়েকবার শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করে। তখন পারিবারীকভাবে বিষয়টি ফয়সালার চেষ্টা হয়। এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় মা ও মেয়ের পাকিস্তানে ফেরত যাবার খবর শুনে বখাটে আল আমীন ক্ষুব্দ হয়। গত ১৬ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় ওই কিশোরীকে কাকার বাড়ি থেকে কৌশলে অপহরন করে নিয়ে যায় সে। এরপর বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে তার ওপর জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল ধর্ষক আল আমীন, তার বাবা আবুল হোসেন ও মা আনোয়ার বেগমকে আসামী করে ওই কিশোরীর মা গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। গোপালপুর থানা পুলিশ গোপন সুত্রে খবর পেয়ে ১৮ এপ্রিল ভোরে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে।

গত ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম থেকে আল আমিনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বুধবার আসামী আল আমীনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রেরণ করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় ধর্ষিত কিশোরীর দোভাষির মাধ্যমে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নওরিন মাহবুব এর কাছে ২২ ধারার জবানবন্দী প্রদান করেছেন। পওে ওই রাতেই আল আমীনের ভাই সুমনকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়।