• আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১৩ মে, ২০২১ ৷

অবশেষে নিজের শপথ না নেওয়ার কারণ জানালেন মির্জা ফখরুল


❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- তারেক রহমানের নির্দেশে দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৫ এমপি সংসদে গেলেও দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যের শপথ নেননি বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়াজ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন আয়োজিত উন্নয়নের মৃত্যুকূপে জনজীবন/নুশরাত একটি প্রতিবাদ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আমি খুব স্পষ্ট করে উত্তর দিয়েছি। আমি ধন্যবাদ জানাই, যারা বিষয়টিকে পুরোপুরি সেভাবেই উপস্থাপন করেছেন আপনাদের পত্রিকায়, চ্যানেলে। একই সঙ্গে আমি খুব বিস্মিত হয়েছি কিছু কিছু পত্রিকা, কিছু কিছু চ্যানেলে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন— যেটা আমরা বলিনি, যেটা আমরা করিনি। খুব জোরে সোরে কয়েকটি চ্যানেল থেকে বলা হচ্ছে, আমি শপথ নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছি, আবেদন করেছি।’

‘আমি কোনো চিঠি দেইনি, কোনো সময় চাইনি। এখন আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, আপনার দলের সিদ্ধান্ত হলো আপনি শপথ নিলেন না কেন? এটাও আমার দলের সিদ্ধান্ত, এটাও আমাদের কৌশল। সেই কৌশলেই আমি শপথ নেইনি এবং আমি কোনো চিঠি দেইনি, ক্লিয়ার? আর কোনো সমস্যা আছে?’— বলেন বিএনপি মহাসচিব।

সাংবাদিকদের পাঠানো চিরকুটের জবাবে তিনি বলেন, ‘সমঝোতার কথা অনেকেই বলেছেন। বিএনপি সমঝোতা করলে অনেক আগেই করতে পারত। বেগম খালেদা জিয়া যদি সমঝোতা করতেন, তাহলে উনিই প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্র চর্চার যে জায়গাটুকু, প্রতিবাদ করার যে জায়গাটুকু, তা একেবারেই সংকীর্ণ হয়ে আসছে। তাই, আমরা সেই জায়গা থেকে ন্যূনতম কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। সময় প্রমাণ করবে এটা সঠিক সিদ্ধান্ত হল কিনা।’

তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, অনেকেই চিন্তা করছেন যে, সিদ্ধান্তটা আমাদের জন্য খুব খারাপ সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমরা মনে করছি না। আমাদের এটার পেছনে সব চেয়ে বড় যুক্তি যেটা সেটা হচ্ছে— সামান্যতম যে সুযোগটুকু রয়েছে, যে স্পেস হয়েছে সেটুকু ব্যবহার করা। একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে— যেকোনও কিছুই সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তন হয়। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই সিদ্ধান্তটা সঠিক সিদ্ধান্ত। বাস্তবতার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি আরও  বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) থেকে রাজনীতি খুব গরম হয়ে উঠেছে। কারণ, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। বলা যেতে পারে, এটা নিঃসন্দেহে একটা চমক। ইউটার্ন একটা। আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল ৩০ তারিখের যে নির্বাচন হয়েছে, সেটা কোনও নির্বাচন হয়নি। যে নির্বাচনের ভোট ২৯ তারিখের রাতে চুরি হয়ে গেছে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে। জনগণের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে নির্বাচন হয়েছে। তখন জনগণের যে ক্ষোভ ছিল, সেই ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম— শপথ গ্রহণ করবো না। কিন্তু একটি কথা আমরা বিশ্বাস করি, কোনও সিদ্ধান্তই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে, এটা সবসময় সঠিক নয়। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, আমাদের ন্যূনতম যে সুযোগটুকু আছে সংসদে গিয়ে বলার, সেটা কাজে লাগাবো।’