টাঙ্গাইলে ইউএনও’র নামে মামলা করলেন সাবেক এমপি ও চেয়ারম্যান!


❏ বুধবার, মে ১, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুর রহমানের নামে মামলা করেছেন টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয় এবং সখীপুর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু ও তার (উপজেলা চেয়ারম্যান) সহোদর ছোটভাই আবদুল আজিজ তালুকদার।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ঘেঁষে একতলা ভবনে দুটি দোকানের মালিকানা দাবি করে তাঁরা তিনজন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

টাঙ্গাইল তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে গত ২৫ এপ্রিল মামলা হলেও সোমবার বিকেলে বিবাদীর কাছে মামলার নোটিশ যায়। আদালত আগামী ১০ জুনের মধ্যে বিবাদী ইউএনও আমিনুর রহমানকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সখীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ঘেঁষে উত্তর পাশে এক শতাংশ জমির ওপর একতলা ভবন করে দুটি দোকান প্রায় ১০ বছর ধরে ভাড়া দিয়েছেন সাবেক এমপি অনুপম শাহজাহান জয় ও তাঁর দুই চাচা। দুই ভাড়াটিয়া জুলহাস উদ্দিন ও আমিনুল ইসলাম নিয়মিত তাঁদের ভাড়াও পরিশোধ করছেন। হঠাৎ করে গত ২১ এপ্রিল সখীপুরের ইউএনও আমিনুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান প্রশাসক হিসেবে ওই দুটি দোকান মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দাবি করে ওই দুই ভাড়াটেকে এক বছরের ভাড়া পরিশোধের জন্য নোটিশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে এক শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে ওই মামলাটি করা হয়।

সখীপুর উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মামলার দুই নম্বর বাদী জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ঘেঁষে আমাদের তিন শতাংশ জমি রয়েছে। কমপ্লেক্স ঘেঁষে এক শতাংশ জমির ওপর ১০ বছর আগে একতলা ভবন করে দুটি দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে ইউএনও সাহেব ওই দুটি দোকান মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দাবি করে আমাদের ভাড়াটেদের কাছে এক বছরের ভাড়া চেয়ে নোটিশ দেন। আমরা ওই জমির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছি।’

সাবেক এমপি অনুপম শাহজাহান জয় বলেন, ‘আমার প্রয়াত বাবা শওকত মোমেন শাহজাহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমার বাবাই ওই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের চারতলা ভবনটি করে দিয়েছেন। কমপ্লেক্স ঘেঁষে আমার দাদা মুখতার আলী তালুকদারের জমি রয়েছে। ইউএনও সাহেব এসব ইতিহাস না জেনে আমাদের দুই ভাড়াটেকে ভাড়া চেয়ে নোটিশ দেওয়া উচিত হয়নি।’

দোকানের ভাড়াটে আমিনুল ইসলাম ও জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ১০ বছর আগে ওই দোকান সাবেক এমপির পরিবারের কাছ থেকে জামানত দিয়ে ভাড়া নিয়েছি। ১০ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের নয়, সাবেক এমপি পরিবারের কাছেই ভাড়া পরিশোধ করে আসছি। এখন এক বছরের ভাড়া চেয়ে নোটিশ আসায় আমরা বিপাকে পড়েছি।’

এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান প্রশাসক আমিনুর রহমান বলেন, ‘ওই দুটি দোকান ও জমি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের। ফলে ওই দুটি দোকানের এক বছরের ভাড়া চেয়ে দুই ভাড়াটের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আইনিভাবেই এ মামলার মোকাবেলা করা হবে।