ফেনীর এসপি-ওসিসহ ৫ জনের শাস্তির সুপারিশ

❏ বুধবার, মে ১, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ সুপার ও ওসিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি।

৩০ এপ্রিল রাতে কমিটি ওই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে।

যাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইকবাল ও মো. ইউসুফ।

প্রতিবেদনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধেও দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

এর আগে, নুসরাত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও পুলিশের দায়িত্বহীনতার বিষয়ে জানতে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ৪০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নুসরাত হত্যার তদন্তে গঠিত পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের উচ্চপর্যায়ের কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এডিসি ও চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। ৮ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় মামলা হয়। সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে নুসরাত হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জন জড়িত। এর মধ্যে নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়ার সময় চারজন সরাসরি অংশ নেন। কারাগার থেকে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দেন মাদরাসার অধ্যক্ষ।

নুসরাত হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ একাধিকজন আটক হয়েছেন। এদের মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।