শ্রীলঙ্কার পর ভারতেও বোরখা নিষিদ্ধের দাবি, কি বললেন মোদী সরকার?


❏ বুধবার, মে ১, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ইস্টার সানডেতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের জেরে বোরখা পরা নিষিদ্ধ করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। শুধু তাই নয়, মুখ ঢাকা কোনও পোশাক পরা যাবে না বলে ঘোষণা করেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট।

এদিকে শ্রীলঙ্কার পর এবার ভারতেও বোরখা নিষিদ্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন শিবসেনা। বুধবার মুখপত্র ‘সামনা’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে এই দাবি পেশ করে উদ্ধব ঠাকরের দল।

শিব সেনার দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সার্বজনিক স্থানে বোরখা নিষিদ্ধ করা হোক। মুখপত্র সামনায় বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসের আবহে শ্রীলঙ্কার দেখানো পথেই হাঁটুক ভারত। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে দলটি প্রশ্ন করে, যদি রাবনের দেশ হয়ে শ্রীলঙ্কা বোরখা নিষিদ্ধ করতে পারে, তাহলে রামের দেশ কেন সেই পদক্ষেপ করছে না? বোরখা নিষিদ্ধ করে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা।

মুসলমানরা ধর্মের নিহিত অর্থ না বুঝে বোরখা, তিন তালাকের মতো প্রথাকে ইসলামের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছেন। নিজের দাবির সমর্থনে তুরস্কের মুস্তফা কামাল পাশার উদাহরণ টেনে সামনায় বলা হয়, তুরস্কে ধর্মীয় উন্মাদনা রুখতে লোম দাড়ি ও বোরখা নিষিদ্ধ করেছিলেন পাশা। তবে শরিক দলের সঙ্গে একমত নয় বিজেপি।

শাসকদলের নেতা জি ভি এল নরসিমা রাও সাফ জানিয়েছেন, সন্ত্রাস দমনে উপযুক্ত পদক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ফলে এই মুহূর্তে বোরখা নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্তের কোনও প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার পর সোমবার থেকে সার্বজনিক স্থানে বোরখা পরা নিষিদ্ধ করে শ্রীলঙ্কা। জরুরি অবস্থা চলাকালীন বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে একথা ঘোষণা করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা। প্রেসিডেন্ট বিবৃতি দিয়ে জানান, ‘জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে বোরখার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মুখ ঢেকে প্রশাসনের পক্ষে নাগরিকদের শনাক্ত করার কাজ কঠিন করে দেবেন না।’

সব মিলিয়ে, ইস্টার ডে হামলার আতঙ্ক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটি। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে এহেন সিদ্ধান্ত নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছে সরকার।