দরকার হলে সংসদে পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসবো: বিএনপির হারুন

১:৪৮ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- নানা নাটকীয়তার শেষে বিএনপির পাঁচ এমপির শপথ এবং দলের মহাসচিবের শপথ না নেওয়া- এ নিয়ে গত কদিন ধরে দেশের রাজনীতি সরগরম। শেষ মুহূর্তে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শপথের অনুমতি দিলেও দলের নীতি নির্ধারকদের সিংহভাগই কখনই এই শপথ চাননি।

তাদের যুক্তি ছিল- এই নির্বাচন অবৈধ এবং শপথ নিলে সেই নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। এছাড়া, মাত্র পাঁচ-ছয়জন এমপি সংসদে কার্যকরী কোনও ভূমিকাই রাখতে পারবেননা।

এখন শপথ নেওয়ার পর শপথ গ্রহণকারীরা দলের নেতৃত্বের এই সন্দেহ-বিতর্ক কীভাবে ঘোচাবেন? এমন প্রশ্নে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে নির্বাচিত এমপি এবং বিএনপির অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশীদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেছেন তার সংসদে যাওয়া উচিত। তবে দরকার হলে পার্লামেন্টে পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসবেন।

তিনি বলেন, সংসদে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান সমাজের চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে। হারুন বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপার্সন (খালেদা জিয়া) এখনো নিম্ন আদালতের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দী রয়েছেন এবং সরকারি হস্তক্ষেপের কারণেই উনি উচ্চ আদালত থেকে জমিন পাচ্ছেন না। যেটি আমি সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আমি সংসদে উপস্থাপন করেছি এবং উনার মুক্তি দাবি করেছি।

তিনি মনে করেন, তাদেরেকে কথা বলা সুযোগ না দেওয়া না হলে সময়মত তারা ‘পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসার চিন্তা’ করবেন।

এই সংসদ সদস্য বলেন, “আসলে সারাদেশের যে নির্বাচনী অবস্থা দাঁড়িয়েছে গত ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এখন যেহেতু সংসদ গঠিত হয়ে গেছে সেখানে আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায় এসেছে যে সংসদে যাওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “সেজন্য পার্টিকে আমি সবসময় বোঝানোর চেষ্টা করেছি সংসদে গিয়ে বর্তমান দেশের যে চিত্র আমরা সংখ্যালঘু হলেও সে কথাগুলো আমাদের বলা দরকার, এবং সেখান থেকে যদি সময়মত সে সুযোগ না দেওয়া হয়, দরকার হলে আমরা পার্লামেন্টে পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসবো।”

প্রথম দুদিনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমিই একমাত্র কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। লক্ষ্য করেছি, কথা বলার ক্ষেত্রে মাননীয় স্পিকার সুযোগ দেবেন বলে তার মনে হয়েছে।”

কিন্তু দলের ভেতরে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে বিরাট সন্দেহ ছিল। সেখানে তারা কি ভূমিকা পালন করতে পারবেন? “নিশ্চয়ই আমার জন্য বরাট চ্যালেঞ্জ। আমাকে যেহেতু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমার জ্ঞান মেধা দিয়ে দেশের সামগ্রিক সংকটের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করবো।”

কোন সংকটের চিত্র তুলে ধরবেন তিনি? জবাবে হারুন বলেন, “গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা, সুশাসনের পরিবেশ তৈরি করা যেটা গত দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে।” এরকম “নৈরাজ্যের নির্বাচন বাংলাদেশে কোনদিন হয়নি” সেটাই তারা তুলে ধরতে চান সংসদে।

আলোচনার ক্ষেত্রে কৌশল ঠিক করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নাকি তারা নিজেরাই করবেন?

এক্ষেত্রে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কৌশল ঠিক করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, “কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে অবশ্যই যোগাযোগ থাকবে, তাদের উপদেশ, পরামর্শ দিক-নির্দেশনা অবশ্যই গ্রহণ করবো তাতে কোন সন্দেহ নাই।”