ফণীর হানার আগেই আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইট ডাউন!

৪:২৪ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ এখনও আঘাত না হানলেও এরই মধ্যে দুর্যোগে পড়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ওয়েব ভিজিটর বা ব্যবহারকারীর চাপে অচল হয়ে গেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটটি।

এছাড়া ইন্টারনেট সংযোগও নেই সেখানে। আবহাওয়া অধিদপ্তরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পুরো অন্ধকারে পড়েছে সংস্থাটি। হটলাইনে ফোন করেও মানুষ আবহাওয়ার খবর জানতে পারছে না।

বাংলাদেশের আবহাওয়া-সংক্রান্ত তথ্য দেয়া একমাত্র সরকারি সংস্থা আবহাওয়া অধিদফতর। সাধারণ মানুষ আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইট (www.bmd.gov.bd) থেকে তথ্য জানে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী অধিদফতরের আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলা ছাড়াও সংস্থাটির ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নেন।

কিন্তু আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রবেশের ক্ষেত্রে সকাল থেকেই সমস্যা হচ্ছিল। তবে দুপুরের কিছু আগে ওয়েবসাইটটি একেবারে ডাউন হয়ে যায়। অ্যাড্রেস সার্চ দিলে লেখা উঠছে- This site can`t be reached।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফেণীর আপডেট জানতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ঘণ্টাতে ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি ভিজিটর একইসময়ে সাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে ওয়েবসাইটটি ‘ডাউন’ হয়ে যায়।

ওয়েবসাইট ঠিক করতে ঘণ্টা চারেক সময় লাগতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ইন্টারন্টে সংযোগও নেই। আমরা বিটিসিএলের ইন্টারনেট ব্যবহার করি। বিষয়টি বিটিসিএল-কে জানানো হয়েছে।”

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হটলাইন ১০৯০ নম্বরে ফোন করেও মানুষ আবহাওয়ার খবরও জানতে পারছেন না বলে জানান শামসুদ্দিন।

তিনি বলেন, “এই সেবাটি (১০৯০ নম্বরে ফোন করে আবহাওয়ার সবশেষ খবর জানা যায়) বিটিসিএল নিয়ন্ত্রণ করে, ওখানেও মানুষ ফোন করে সেবা পাচ্ছে না। এটা বিটিসিএলএর ইস্যু, কিন্তু মানুষ মনে করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমরা অন্ধকারে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবহাওয়া অধিদফতরে এক ব্রিফিংয়ে অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমদ বলেন, ফণীর গতি বেড়ে এটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। শুক্রবার বিকেল কিংবা সন্ধ্যা নাগাদ ফণী সরাসরি কিংবা ভারত হয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।

উল্লেখ্য, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যা নাগাদ এই ঝড়ের অগ্রবর্তী অংশ বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত ও কক্সবাজারকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ মে) সকালে ঢাকায় আবহাওয়া অধিদফতরের এক বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান অধিদফতরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ।