গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে ডাকসুর গঠনতন্ত্র বিকৃতির অভিযোগ!

❏ বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৯ শিক্ষাঙ্গন
rabbani

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বনীর বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্রবিকৃতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল (বুধবার) ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বনীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়,ঢাবির সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে ডাকসুর তত্বাবধায়নে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে যে কোন অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতামূলক সহশিক্ষা কার্যক্রমে ঢাবি প্রতিনিধি প্রেরণের বিষয়ে ডাকসু একক এখতিয়ার রাখে।

তার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন স্বয়ং ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর। এদিকে, গোলাম রাব্বনীর এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গঠনতন্ত্র হরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

গোলাম রাব্বনীর করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ্য করা হয়েছে, ডাকসু ঢাবি সহশিক্ষা কার্যক্রমে (যথা-বিতর্ক, নাটক, গান, নৃত্য,বক্তৃতা, আবৃত্তি ইত্যাদি) তত্ত্বাবধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সকল অংশীজনের সহায়তা কামনা করে। আপনারা ইতিমধ্যে জানেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান যেকোন অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতামূলক সহশিক্ষা কার্যক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি প্রেরণে ডাকসু এ বিষয়ে একক এখতিয়ার রাখে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ডাকসু সংশ্লিষ্ট সম্পাদকগণ অতি দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবেন। এর আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হয়ে যেকোনো সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পূর্বে ডাকসুর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ করা হল।
এদিকে, এই বিষয়ে গঠনতন্ত্রে এমনভাবে কোন কিছু উল্লেখ্য নেই বলে জানা যায়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একক এখতিয়ার ডাকসুকে দেওয়া হয়নি। কোথাও বলা নেই যে, ডাকসুর কাছে জানিয়ে কোনো প্রতিযোগিতায় যেতে হবে।

গঠনতন্ত্রের ৩ (ই) ধারাতে বলা হয়েছে, `If possible, send representatives to Inter-University debates and educational conferences.’ অর্থ্যাৎ সম্ভব হলে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক ও শিক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারবে ডাকসু। কিন্তু কোথাও বলা নেই, এ ধরণের অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র ডাকসু প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারবে।

গোলাম রাব্বানীর এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে ডাকসুর একাধিক প্রতিনিধি এবং ডাকসুর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও সমালোচনা করেছেন। এ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইন বলেন, এটা একটি ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ হয়েছে। ইতোমধ্যেই টিএসসির সংগঠনগুলোকে আনুষ্ঠানিক,অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি। মতবিনিময় সভা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, এই ধরনের কোন কর্তৃত্বমূলক কোন আলোচনা ডাকসুতে করা হয়নি আর ডাকসুর এই ধরনের কোন কর্তৃত্বমূলক সিদ্ধান্ত ডাকসুর নেয়া উচিত না। এটা তিনি (গোলাম রাব্বানী) দিয়েছেন তার কোন ব্যক্তিগত কোন চিন্তাভাবনা থেকে। ডাকসুর সামগ্রিক সিদ্ধান্ত হলে ভিপি ও জিএস উভয়ের স্বাক্ষর থাকতো। এটা তার স্বেচ্ছাতারিতা মূলক সিদ্ধান্ত ডাকসুকে প্রশ্ন বিদ্ধ করার জন্য।

এই বিজ্ঞপ্তির নিন্দা জানিয়েছেন ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন। তারা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বশেষ মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার চর্চার পীঠস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও শৃঙ্খলিত করা হলো এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

সারাদেশে যখন চরম গণতন্ত্রহীনতা বিরাজ করছে তখন দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন সমগ্র জাতির মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিলো কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ চর্চার ধারাবাহিকতা আমরা ডাকসু নির্বাচনেও দেখতে পাই।

– সংগৃহীত