ফনী আতংকের মাঝেই জারি হলো ‘প্রবল ভুমিকম্প’র’ আরেক আশংকা!


❏ শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণীর গতি প্রকৃতি নিয়ে যখন টান টান উত্তেজনা আর অনাকাংখিত কিছুর আশঙ্কায় সঙ্কিত হয়ে পড়েছে ভারত-বাংলাদেশে দুই দেশের মানুষ ঠিক তখনি অনেকটা ‘মরার উপর খরার ঘা’ হয়ে জারি হলো আরও এক আতংক । এই আতংক বা আশংকার নাম প্রবল ভুমিকম্প।

ডিট্রিয়ানাম নামের একটি সংস্থা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিশ্লেষণ করে দাবি করছে, আজ শুক্রবার হতে পারে প্রবল ভূমিকম্প । আবহাওয়া দফতরের মতো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয় ডিট্রিয়ানাম নামের এই সংস্থাটি।

পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে উঠে আসতে পারে বড়সড় কম্পন। যা মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে বিশ্বকে৷ আজ শুক্রবার এবং শনিবার দুদিনের মধ্যে ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের সতর্কবার্তাই দিয়েছেন ভূতত্ববিদরা৷

ফণীর আঘাত থেকে বাঁচতে ইতোমধ্যেই জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। দুই দেশের সরকার আগাম সতর্কতা হিসেবে নিয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। আর এর মধ্যেই জারি হলো প্রবল ভূমিকম্প সতর্কতা।

ডিট্রিয়ানাম তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ভুমিকম্পের সতর্কতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, বুধ, শুক্র ও নেপচুন গ্রহ এখন একই সরল রেখায় অবস্থান করছে। তাছাড়া আরও আছে পৃথিবী, চাঁদ ও নেপচুন। আর এর ফলে শুক্রবার বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে হতে পারে প্রবল ভূমিকম্প।

রিখটার স্কেলে কম্পনের প্রবল এই ভূমিকম্পের মাত্রা হতে পারে ৮। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঠিক একই অবস্থানে গত শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৬ সালে ভূমিকম্প হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকায়।

ডিট্রিয়ানাম  জানিয়েছে, সৌরজগতের অবস্থানগত কিছু পরিবর্তনের জন্য পৃথিবীতে এই ভূমিকম্প দেখা দিতে পারে৷ বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে ক্রিটিক্যাল জিওমেট্রি৷ ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ডিট্রিনিয়াম জানাচ্ছে সৌরজগতে বুধ, মঙ্গল ও নেপচুন গ্রহের অবস্থানগত পরিবর্তনের কারণে ফল ভুগতে হতে পারে পৃথিবীকে৷ ভূতত্ববিদদের দাবী এসময় পরিবর্তন হবে সূর্যের অবস্থানেরও৷ ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পৃথিবীর ওপর৷

গ্রহ ও সূর্যের পারস্পরিক টান ও মাধ্যকর্ষণ শক্তির বাড়া কমার প্রভাবেই এই কম্পনের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। বিজ্ঞানী ও ডিট্রিনায়াম ওয়েবসাইটের সম্পাদক ফ্রাংক হুগারবিটস এক বার্তায় জানিয়েছেন মাধ্যকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর টেকটনিক পাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। ফলে এই পাতগুলিও একে অপরের দিকে সরে আসতে পারে। মে মাসের ৪ তারিখের মধ্যে এই ভূমিকম্পের মুখে পড়তে পারে পৃথিবী। যার জেরে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশংকা থাকছে পৃথিবীর কোন অংশে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘এই সময়’ তাদের প্রকাশিত সংবাদে জানিয়েছে, ‘গত ১০০ বছরে যখনই পৃথিবীর কক্ষপতে তাঁর গতিতে পরিবর্তন এসেছে, তখনই কোনও না কোনও বড় সড় ভূমিকম্প হয়েছে৷ এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে জিওলজিকাল সোসাইটি অব আমেরিকার বার্ষিক সম্মেলনে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কমে গেলে বিষুবরেখা সংলগ্ন এলাকার প্রসারন কমে আসে৷ কিন্তু টেকটোনিক পাতগুলি সহজে সংকোচন হয় না৷ ফলে টান বাড়ে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রে৷ তৈরি হয় কম্পন৷

গত বছরই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল আইআইটি খড়্গপুরের গবেষকরা। প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠতে পারে কলকাতা। গবেষকদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভয়াবহ ভূমিকম্পে যে কোনও সময় মুহূর্তে তছনছ হয়ে যেতে পারে কলকাতা সহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই কম্পনের মাত্রা হতে পারে রিখটার স্কেলে ৬.১ থেকে ৬.৮ মাত্রার মধ্যে। বছর ৫০ বাদে সেই কম্পনের মাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সিসমোলজিক্যাল মাইক্রোজোনেশনের একটি ম্যাপ তৈরি করেছে আইআইটি খড়্গপুর। তার মাধ্যমে কলকাতায় ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুমান করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে তার দিক নির্দেশ পাওয়া যাবে সেখানে।

কলকাতা সহ–বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। আর সবথেকে বেশি বিপজ্জনক অবস্থানে রয়েছে কলকাতার পার্কস্ট্রিট, সল্টলেক, নিউটাউন, রাজারহাট, দমদমের মতো এলাকা। জনবহুল এইসব এলাকায় যে ব্যাপক ক্ষতি হবে, সেই আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯০৬ সালের ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি হয়েছিল। ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল সুমাত্রার উপকূলেও দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল। রিখটার স্কেলে যার কম্পনের মাত্রা ছিল ৮।

সম্পর্কিত সংবাদ

তাণ্ডব চালিয়ে যে পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ফণী

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সারারাত দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানবে ফণী। প্রচণ্ড শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি এখন ভারতের বিশাখাপত্তম উপকূলের খুব কাছকাছি অবস্থান করছে।

ফ্রান্সভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আজ শুক্রবার বিকেলের দিকে ভারতের পুরিতে আঘাত হানতে পারে ফণী। ভারত সরকারের ত্রাণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওড়িশার ১৩টি জেলার প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার অধিবাসীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ভারতের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ১৫ জেলায় তাণ্ডব চালাতে পারে ফণী। তারপর পরপরই বাংলাদেশে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে আঘাত হানবে।

ফণীর অবস্থান এখন বিশাখাপত্তম থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে। তাছাড়া ওড়িশা ও কলকাতার দীঘা থেকে এর দুরুত্ব ৩০০ কিলোমিটার। শুক্রবার দুপুরের মধ্যে ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানার পড় মারাত্মক এই ঘূর্ণিঝড় ফণী স্থলভাগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগোবে।

ভারতের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতা থেকে ফণী যে দুরুত্বে অবস্থান করছে তাতে করে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব চালিয়ে বাংলাদেশে প্রবশে করবে ফণী। বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলো সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইতোমধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া ট্যুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তমে ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তীব্র বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে তীব্র হাওয়া এবং বৃষ্টির জেরে অন্ধ্রপ্রদেশের রাস্তার ধারে বৈদ্যুতিক পোল ও গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। ঝড় ও বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানের সন্ধানে বাড়ি-ঘর ছাড়ছেন তারা।