🕓 সংবাদ শিরোনাম

সৌদিআরবকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে আশাবাদী’দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছেএকটা কার্ড করে দেনা বাজান, খেয়ে বাঁচি ! ফুলবাডীতে সামদ্রিক শৈবাল চাষের প্রোজেক্ট পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারপটুয়াখালীতে চাল আত্মসাতের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারসরকার আইন-আদালতকে নিজের সুবিধায় ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে -মির্জা ফখরুলআগুন নিয়ে খেলবেন না: নেতানিয়াহুকে হামাসপ্রধানইসরাইলের চেলসিকে হারিয়ে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন ‘বাংলাদেশের’হামজাপ্রবল বেগে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টিকটিকি’রোহিঙ্গা শিবিরে ডাকাতের গুলিতে রোহিঙ্গা নেতা নিহতশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল

  • আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

‘প্রবল আতঙ্কে আছি, জানি না কী হবে’


❏ শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সারারাত বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানবে ফণী। প্রচণ্ড শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি এখন ভারতের বিশাখাপত্তম উপকূলের খুব কাছকাছি অবস্থান করছে।

এদিকে আজ শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, পূর্বাভাসের চেয়ে ৫-৬ ঘণ্টা আগেই স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে ফণী। গত তিনদিন উপগ্রহ চিত্রে গতিবিধির ওপর নজর রাখার পর ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিল, শুক্রবার বেলা তিনটার সময় বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভূমিতে ঢুকবে ঘূর্ণিঝড় ফণী।

এখন সেই পূর্বাভাস বদলে দিল্লির ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা কেন্দ্রের প্রধান মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১২টার মধ্যে যে কোন সময় ফণী আছড়ে পড়বে পুরী সংলগ্ন গোপালপুরে। এরপর সেটি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের দিকে চলে যেতে পারে।

এদিকে হঠাৎ করেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে সমুদ্র। বিশাল বিশাল ঢেউগুলো আছড়ে পড়ছে বিচে। সঙ্গে তীব্র গর্জন। পাড়ে দাঁড়িয়ে এক হাত দূরে দাঁড়ানো কারও কথা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে না।

কাজের সূত্রে ৩০ বছর আগে পুরীতে আসা। সেই থেকে এখানেই রয়েছি। এর আগে অনেক ঝড় আছড়ে পড়েছে ওড়িশায়। গত বছরের অক্টোবরে যখন তিতলি আসে, তখনও পুরীতে ছিলাম। সে বীভৎসতা নিজের চোখে দেখেছি। কিন্তু ফণীর ফণা তার চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে বলে টের পাচ্ছি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মেঘে ঢেকে রয়েছে আকাশ। ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিও শুরু হয়ে গিয়েছে সকাল থেকে। অন্য দিন এ সময়ে গমগম করে সমুদ্র সৈকত। ভোর থেকেই পর্যটকেরা সমুদ্রস্নানে নেমে পড়েন। কিন্তু আজ সৈকতের কাছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং পুলিশের দাপাদাপি। কোনও পর্যটককেই সমুদ্রে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। মাইক দিয়ে প্রচার করে তাঁদের আজ ১২ টার মধ্যেই সমস্ত হোটেল খালি করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদেরও।

পর্যটকদের জন্য বিশেষ তিনটি ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ বাসেরও ব্যবস্থা করেছে ওড়িশা সরকার। সকাল ১০টা থেকে ৪০-৪৫টা বাসে পর্যটকদের কলকাতায় ফেরানো শুরু হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি রুখতে যথাসম্ভব তৎপর ওড়িশা সরকার। আজ সকালে জগন্নাথ মন্দিরের পতাকাও ঝড়ে উড়ে যায়। মন্দিরের পুজোয় যাতে বিঘ্ন না ঘটে তার জন্য ফের পতাকা বাধার তোড়জোড় শুরু করেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।

তবে প্রশাসন তৎপর হলেও সমুদ্রের একেবারে কাছে বসবাসকারী আমরা সকলেই আতঙ্কে রয়েছি। জানি না কী হবে। অতি শক্তিশালী প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ের কথা জানার পর থেকে কলকাতার আত্মীয়েরাও মুহূর্মুহূ ফোন করে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন। আমার বাড়ি জগন্নাথ মন্দিরের কাছেই। মন্দির থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দূরে। আর সেটাই আমার একমাত্র ভরসার জায়গা। জগন্নাথ দেব প্রতি বারের মতো এ বারও আমাদের রক্ষা করবেন। এই বিশ্বাস নিয়েই রয়েছি।