নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে স্পীডবোট: নিহত ১, শিশু নিখোঁজ


❏ শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

মাদারীপুর প্রতিনিধি- ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি রুটে স্পীডবোট চলতে গিয়ে ট্রলারের সাথে সংর্ঘষে ডুবে গিয়ে স্পীডবোটের এক যাত্রী নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকের এ ঘটনায় এক শিশু নিখোঁজ ও অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে ৯ স্পীডবোট চালককে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে নিষেধাজ্ঞার মাঝে সারাদিন ও রাতে স্পীডবোট চললেও বিআইডব্লিউটির তেমন কোন ভূমিকা চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারটা থেকে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি রুটে লঞ্চ ও স্পীডবোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ । লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ন বন্ধ থাকলেও শিমুলিয়া পাড় থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্পীডবোট চলাচল করতে দেখা যায়। সন্ধ্যা থেকে সকল ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রী চাপ আরো বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নেয় স্পীডবোট চালকরা। রাতের গভীরতার মাঝেই চলছিল স্পীডবোট।

জানা যায়, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে আল আমিন নামে এক চালক স্পীডবোট নিয়ে কাঠালবাড়ি ঘাটে রওনা দেয়। স্পীডবোটটি কাঠালবাড়ি ৪ নং ফেরিঘাট এলাকায় আসলে বিপরীতমুখী একটি ট্রলারের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে স্পীডবোটটি ডুবে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়।

আহতদের মধ্যে ৩ যাত্রীকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে মো: মুরাদ (২৫) নামের এক যাত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এছাড়াও আমির হামজা (৬) নামের এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

নিখোঁজ আমিরের মা, বাবা ও ভাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। নিহত মুরাদ ঢাকার বাড্ডার খিলবাড়ির টেক এলাকার মোঃ ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তার শশুর বাড়ি শিবচরের নিলখী।

নিখোঁজ আমির হামজার মামা কামরুল হোসেন বলেন, আমার বোন, জামাই ২ ভাগিনা নিয়ে আমাদের বাড়ি আসছিল। স্পীডবোট ডুবিতে বোন জামাই ও বড় ভাগিনা গুরুতর আহত ছোট ভাগিনা নিখোঁজ রয়েছে।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আদনান বলেন, মুরাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ওর পেটের আঘাতটি গুরুতর। এছাড়া আরো ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।