উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী

⏱ | শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ 📁 আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ভারতের ওড়িশার পুরিতে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। এই মুহূর্তে সেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫-২০০ কিলোমিটার। ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত এর প্রভাব থাকবে।

এদিকে ভারতের আনন্দবাজার জানায়, ওড়িশার স্থলভাগের গভীরে না গিয়ে ক্রমশ উপকূল বরাবর এ রাজ্যের দিকেই নাকি ধেয়ে আসছে অতি শক্তিশালী প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। আর সে কারণেই উদ্বিগ্ন আবহাওয়াবিদরা।

ভারতের আবহাওয়াবিদ জে কে মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, একটা ঘূর্ণিঝড় যখন কোথাও আছড়ে পড়ে বা তার ল্যান্ডফল হয়, অনেকটা অঞ্চল জুড়েই তার বিস্তৃতি থাকে। ঝড়ের কেন্দ্রকে বলা হয় ‘আই অফ দ্য স্টর্ম’। আর এই ‘আই অফ দ্য স্টর্ম’-কে কেন্দ্র ধরলে তার চারপাশে অনেকটা অঞ্চল জুড়ে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড়।

তিনি বলেন, একটা ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র যত স্থলভাগের গভীরে এগতে থাকে, ততই তার শক্তিক্ষয় হয়। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তার কারণটা। কারণ, সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ ওড়িশার উপকূলে স্থলভাগের উপরে ১৯৫ কিলোমিটার গতিবেগে ফণী আছড়ে পড়লেও, তার অভিমুখ স্থলভাগের গভীরের দিকে নয়। বরং উপকূল বরাবরই সে ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গের দিয়ে এগিয়ে আসছে।

এ ক্ষেত্রে যে হেতু তার বিস্তৃতির অনেকটা অংশ সমুদ্রের উপরেই রয়ে গিয়েছে, তাই পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছতে ফণী যতটা শক্তিক্ষয় করে ফেলবে মনে করেছিলেন আবহাওয়াবিদরা, তা হবে না। ১০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে এ রাজ্যে আঘাত হানতে পারে সে।

অভিমুখ বদলে ওড়িশার স্থলভাগের দিকে না এগিয়ে যদি উপকূল বরাবরই তা যদি এ রাজ্যে এসে পৌঁছায়, তা হলে দুই মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, সকাল সাড়ে ১০টায় কলকাতা থেকে ফণীর অবস্থান ছিল ৪১৮ কিলোমিটার দূরে। দিঘা থেকে ৩৬৪ কিলোমিটার। ইতিমধ্যেই ফণীর প্রভাবে পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং কলকাতায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

এ দিন এ রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় হাওয়ার গতিবেগ প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি থাকবে, জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরে পরিচালক সামছুদ্দিন আহমদ শুক্রবার সকালে বলেন, আজ সন্ধ্যার দিকে ফণী বাংলাদেশে ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে প্রবেশ করবে। এটি প্রথমে খুলনাঞ্চলে আঘাত হানবে। তবে, বাংলাদেশে আসতে আসতে বর্তমানে যে শক্তি তার অর্ধেক কমে যাবে।

সামছুদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘কেউ কেউ বলছে এটি সিডর বা আইলার মতো হবে কিনা। তাদের জন্য বলছি ফণী এসব ঘূর্ণিঝড়ের মত শক্তিশালী নয়। এটি ভারতে এখন যেভাবে আঘাত হানছে সে তুলনায় অপেক্ষাকৃত অর্ধেক শক্তি কমে যাবে। এটির প্রভাবে দেশে গাছপালার ক্ষতি হতে পারে। তবে, প্রাণহানীর শঙ্কা শূন্য শতাংশ।