• আজ ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আজ সন্ধ্যা থেকে ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে পুরো দেশ

❏ শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ঘণ্টায় গড়ে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে ভারতের উড়িষ্যায় অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এর আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে ১৪২ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে পুরি শহরে আঘাত হানে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী ধীরে ধীরে বাংলাদেশের উপকূলের কাছাকাছি আসছে। শুক্রবার সকাল থেকে এটি মোংলা বন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার ও পায়রা বন্দর থেকে ৬৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ফণীর প্রভাবে শুক্রবার ভোর রাত থেকে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে তীরে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, শুক্রবার সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব বাড়বে।

এদিকে ধেয়ে আসা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ খুলনা উপকূল হয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানবে। তখন পুরো দেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে। আঘাত হানার সময় সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসসহ ১০০-১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানোর পর সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভায় এ কথা জানান আবহাওয়া অধিদপতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ খুলনা অঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় এসে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত পুরো বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে। এই সময়টা আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল সময়।

তিনি বলেন, এ সময়ে যারা উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করেন তারা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসসহ উচ্চগতির বাতাস, দমকা ঝড়ো হাওয়ার সম্মুখীন হবে। এই সময়ে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে, শেল্টারে থাকতে হবে।

এদিকে শুক্রবার (৩ মে) আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, ঘূর্ণিঝড়ের এখন যে গতিবেগ, তাতে বোঝা যাচ্ছে মধ্যরাতে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে। ঝড়টি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে বের হয়ে যাবে।

এছাড়া দেশের প্রথম বেসরকারি আবহাওয়া সার্ভিস এমএআরএস ওয়েদারও এ তথ্য প্রকাশ করেছে। এমএআরএস ওয়েদার জানিয়েছে, শনিবার (৪ মে) দুপুরে ঝড়টি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া-যশোরে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া শুক্রবার বিকেল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে ৫ তারিখ সকাল পর্যন্ত মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে চলতে থাকবে।

ফণীর আঘাতে সবচেয়ে বেশি আক্রন্ত হতে পারে এমন এলাকা গুলো হল- যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, ফরিদপুর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও তার আশেপাশের এলাকা।

এদিকে ফণীর ছোবলকে মোকাবেলা করতে প্রস্তত হয়ে আছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত এই ঘূর্ণিঝড়টির বর্তমান অবস্থান ও গতিবিধি দুর্যোগ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর, অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক মনিটর করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা ও উপজেলাতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে ০১৭৬৯৯৫৪১৩৭, ০১৭৫৯১১৪৪৮৮, ৯৮৫৫৯৩৩ এই নম্বরে।

এছাড়াও হটলাইনে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ নম্বরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহারে অনুরোধও জানিয়েছে অধিদফতর। নম্বরগুলো হচ্ছে- ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯২৭৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫।

পাশাপাশি চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল, রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন প্রস্তুত, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহকে একযোগে কাজসহ ১২ পদক্ষেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।