ফণীর আঘাতে লন্ডভণ্ড পুরী, দেখুন আছড়ে পড়ার মুহূর্তের ভিডিও

❏ শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- প্রবল বেগে বইছে হাওয়া, হাওয়ার দাপটে নুয়ে পড়ছে নারকেল গাছগুলো। ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে ভারতের ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়েছে ‘শক্তিশালী প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। ঝড়ে কাঁচাঘরসহ টিনশেডের আধাপাকা ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়ে ও অধিকাংশ ঘরের চাল উড়ে গেছে। পুরীতে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে।

ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ও সৈকত শহরে অবস্থান করছেন ভারতের কলকাতা ২৪ এর প্রাক্তন চিত্র সাংবাদিক নারায়ণ চৌধুরীর। তিনি সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে এভাবেই জানান। আরও জানান, ‘ঝড়ে উড়ে যাওয়ার আগে অন্ধকার বাথরুমে ঢুকে বুঝেছি হোটেলের একটার পর একটা অংশ ভাঙছে।’

জানা গেছে, ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকারে ঝড় এসে গ্রামে আঘাত হানে। ক্ষণিকের মধ্যে গ্রামের ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে যায়। ঘরের চালগুলো বাতাসের তোড়ে উড়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হোটেলের বিরাট বিরাট কাঁচের জানালাগুলো ভেঙে পড়ছে। কিছু দূরেই উত্তাল সাগর। মনে হয় সেই সাগরেই তলিয়ে যাবে পুরো শহর। সকালেই গার্ড ওয়াল ভেঙে গেছে। পুরী অসহায়। আগেই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে পুরো শহর।’

এ সাংবাদিক বলেন, ‘ক্যামেরার ফোকাস করতে পাচ্ছি না। ঝাপসা না স্পষ্ট কী ছবি উঠছে সেটা দেখারও সময় নেই। শুধু ক্লিক করে যাচ্ছি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফণী ঢুকে পড়েছে ওড়িশার অপর সৈকত শহর গোপালপুরে। এর প্রভাবে ১৭৫-১৮০ কিলোমিটার গতি নিয়ে পুরীর ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে ঝড়।’ লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে শহরের জনজীবন। তবে আগে থেকেই নিরাপদ দূরত্বে সবাইকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবুও প্রবল ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বজ্রপাত ও ঝড়ের আঘাতে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুরী, কটক, ভুবনেশ্বর, বালাসোর, চাঁদিপুর, গোপালপুরের মতো এলাকাগুলোতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে আবহাওয়াবিদরা। ওড়িশার বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট রয়েছে জনশূন্য।

ফণীর যাত্রাপথ থেকে ১১ লাখ মানুষকে আগেই নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পুরীতে ফণী আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের দিঘা, মন্দারমণিসহ উপকূলবর্তী অঞ্চলে শুরু হয় তুমুল ঝড়বৃষ্টি। শঙ্করপুরে ভেঙে পড়ে হাইটেনশন বিদ্যুতের খুঁটি।

কলকাতা বিমানবন্দরে শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ থাকছে। ভুবনেশ্বরেও বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকবে। বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ৪ হাজার ৮৫২ সাইক্লোন এবং বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উড়িষ্যায় তাণ্ডব চালিয়ে ফণি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছে।

১৯৯৯ সালের উড়িষ্যার পারাদ্বীপে সুপার সাইক্লোনের পর এই সাইক্লোন ফণি সব থেকে বেশি শক্তিশালী ও মারাত্মক। উড়িষ্যার ওই সাইক্লোনে প্রাণ গিয়েছিল প্রায় ১০ হাজার মানুষের।

ভিডিও দেখুন এখানে-