🕓 সংবাদ শিরোনাম

রোজিনার সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে, তাঁদের জেলে পাঠান: ডা. জাফরুল্লাহকেরানীগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে যুবতীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারপাটগ্রাম সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে নারী ও শিশুসহ ২৪জন আটকসাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়: ভিপি নুরসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: হানিফআর এমন ভুল হবে না: নোবেলস্বেচ্ছায় কারাবরণের আবেদন নিয়ে থানায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরাইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে রাস্তায় ঢাবি শিক্ষক সমিতিযমুনা নদীতে ডুবে তিন কলেজ ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতাকে তথ্য চুরি বলা হচ্ছে, এর চেয়ে দুঃখ আর নেই’

  • আজ বুধবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৯ মে, ২০২১ ৷

ঘূর্ণিঝড় 'ফণী' আতঙ্কে উপকূলের দুই লক্ষাধিক মানুষ, আশ্রয় কেন্দ্রে উপচে পড়া ভীড়!

borguna
❏ শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ বরিশাল

বরগুনা থেকে, আবু সাইদ খোকন : ঘূর্ণিঝড় ফণী আতঙ্কে আমতলী-তালতলীর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার প্রায় দুই লক্ষাধীক মানুষ জান মাল ও গবাদী পশু নিয়ে সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। এতে সাইক্লোন সেল্টারগুলোতে রয়েছে উপচে পড়া ভীড়। ফণীর প্রভাবে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপকূলীয় মানুষ ও জেলেদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে দুই হাজার ৫’শ ২০ জন সেচ্ছাসেবী কাজ করছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মৎস্যজীবীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি ২ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহিরের চরাঞ্চল তলিয়ে গেছে।

জানাগেছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী পায়রা সমূদ্র বন্দর তথা উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে শুক্রবার দুপুর ১ টা থেকে আমতলী- তালতলীর উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি, হালকা দমকা হাওয়া ও গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণী ও অমাবশ্যার প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বিকেল পাঁচটার পর থেকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমতলী ও তালতলীতে মানুকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুরু করছে। সাগর ও তৎসংলগ্ন নদ-নদীতে চলাচলরত সকল প্রকার মাছ ধরা ট্রলার ও নৌযান নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য আমতলীতে এক হাজার ৬’শ ৫০ ও তালতলীতে ৮’শ ৭০ জন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর সেচ্ছাসেবীরা কাজ করছে। উপকূলীয় দুই উপজেলায় ১’শ ৪৫টি সাইক্লোন সেল্টারে প্রায় দুই লক্ষাধীক মানুষ জান মাল ও গবাদী পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সাইক্লোন সেল্টারগুলোতে মানুষের উপচে পরা ভীর রয়েছে।

শুক্রবার খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, তালতলী উপজেলার বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন আশারচর, খোট্টারচর, নিদ্রাসকিনা, ফকিরহাট, বালিয়াতলী, জয়ালভাংঙ্গা, তেতুঁলবাড়িয়া, নিউপাড়া, চরপাড়া, গাবতলী, ছোটবগী, পচাঁকোড়ালিয়া, আমতলী উপজেলার পশুরবুনিয়া, লোচা, ফেরীঘাট, আমুয়ারচর, বৈঠাকাটা, আঙ্গুলকাটা, গুলিশাখালীর নাইয়াপাড়া ও হড়িদ্রাবাড়িয়া এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহিরে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থান সাইক্লোন সেল্টার ও দ্বিতলা পাকা ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। উপকুলীয় এলাকার সকল মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকা তীরে ফিরে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহিরের চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামের ইসহাক হাওলাদার জানান, দুপুরের পর থেকে মানুষ সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, সাইক্লোন সেল্টার কম হওয়ায় মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।

তালতলীর তেতুঁলবাড়ীয়া এলাকার জেলে বাবুল হাওলাদার, সেলিম মিয়া, আসাদুল, হিরন হাওলাদার ও রুবেল জানান, বইন্যার খবর পাইয়্যা মোরা পোলাপান লইয়্যা সাইক্লোন সেল্টারে আইছি। সিডরের নাহান ভুল আর হরমু না।

তালতলী ট্রলার মালিক সমিতির সদস্য মোঃ আলমগীর হোসেন হাওলাদার বলেন, বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন নদ-নদীর সকল মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকা তীরে আশ্রয় নিয়েছে।

তালতলীর ফকিরহাট মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ আবদুস ছালাম বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহির ও চরের জেলেরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক জেলে এখনো আসেনি তাদের সাইক্লোন সেল্টারে আনার চেষ্টা করছি।

আমতলী ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (রেড ক্রিসেন্ট) কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আছাদ বলেন, মানুষ নিরাপদ স্থান ১’শ ৪৫ টি সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। মানুষের জান-মাল রক্ষায় দুই হাজার ৫’শ ২০ জন সেচ্ছাসেবক কাজ করছে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাশ শুভ বলেন, সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার সকল মানুষ সাইক্লোন সেল্টারে আনা হয়েছে। যাতে কোন মানুষের ক্ষতি না হয় সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী প্রভাব থেকে মানুষকে নিরাপদে রাখতে সাইক্লোন সেল্টারে নেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ঘূণীঝড় ফণীর প্রভাবমুক্ত রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আমতলী পৌরসভার মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে জনসাধারনকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান জানান, জনগনের জানমাল রক্ষায় সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আপদকালীন সহায়তার জন্য ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ২১ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ করা হয়েছে।

এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত দমকা হাওয়ার সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আতংকিত হয়ে পড়ছে আমতলীর ৪ লক্ষাধীক মানুষ।