কুষ্টিয়ায় মা বোনের সাথে বাবাকে হত্যা করে মেঝেতে পুতে রাখল ছেলে!

kustia
❏ শুক্রবার, মে ৩, ২০১৯ খুলনা

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,কুষ্টিয়া- কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে মেয়ের দেনমোহরের টাকা বাবা নিতে চাওয়ায় মা বোনকে সাথে নিয়ে বাবা সামারুদ্দিন ওরফে সানাই (৪৫)’কে ৩ মাস আগে হত্যা করে রান্না ঘরের মেঝেতে পুতে রাখল ছেলে। নিহত সামারুদ্দিন সানাইয়ের বড় ভাই মোঃ আব্দুল বারিক বিশ্বাস (৬৭)’র অভিযোগের ভিত্তিতে নিহত সানাইয়ের ছেলে রানা বিশ্বাস (২৪)’কে গ্রেফতার করার পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

নিহত সানাইয়ের ছেলে রানা বিশ্বাসের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, সামারুদ্দিন ওরফে সানাই (৪৫) তার স্ত্রী মোছাঃ রানী খাতুন , ২ মেয়ে, সোনিয়া (২৬) রিমা (১৬) ও ১ ছেলে রানা বিশ্বাস। ছেলে রানাকে সাথে করে বিভিন্ন রকম কাজ করে জীবন যাপন করছিল। এরই মধ্যে সানাই তার বড় মেয়ে সোনিয়াকে কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামে বিয়ে দেয়। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সোনিয়ার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের পর দেনমোহর বাবদ সনিয়াকে ৭২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সোনিয়াকে আবার কুষ্টিয়ায় বিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেও সোনিয়ার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এখান থেকেও দেনমোহর বাবদ সোনিয়া ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পায়। মেয়ের দেনমোহরের টাকা সোনিয়ার বাবা সানাই তার ভাইরার (স্ত্রীর বোনের স্বামী) মাধ্যমে রেখে দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর ওই টাকা সোনিয়া ও সোনিয়ার মা রানী খাতুনের কাছে সানাইয়ের ভাইরা ( স্ত্রীর বোনের স্বামী) বুঝিয়ে দেয়। সেই টাকা সোনিয়ার বাবা সানাই চাইলে সোনিয়ার মা রানী খাতুন, সোনিয়া ও সোনিয়ার ভাই রানা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে সোনিয়ার বাবা সানাই ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। সেই রাতেই সোনিয়ার মা রানী খাতুন ও তার ভাই রানা
সানাইকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন মাস আগে রাতের বেলা ইট ও কাঠ দিয়ে তারা সানাইকে হত্যা করে রান্না ঘরের মেঝেতে পুতে রাখে। এ ঘটনার পর সানাইয়ের স্ত্রী রানী খাতুন ও দু্ই মেয়ে সোনিয়া ও রিমা গার্মেন্টসের কাজে ঢাকায় যায়। সানাইয়ের বাড়ি তিন মাস যাবত তালাবন্ধ দেখে সানাইয়ের বড় ভাই মোঃ বারিক বিশ্বাস (৬৭) সানাইয়ের ছেলে রানার কাছে সানাইয়ের খোঁজ জানতে চায়।

সানাইয়ের ছেলে রানা তার চাচাকে জানায় তার বাবা আর ফিরে আসবে না, এমন কথা বলায় সানাইয়ের বড় ভাইয়ের সন্দেহ হলে সানাইয়ের বড় ভাই মোঃ বারিক বিশ্বাস গত সোমবার (২৯ এপ্রিল) খোকসা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বি এম মেহেদী মাসুদ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য এএসআই এম মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ লাকীকে দায়িত্ব দেন। তিন দিনের তদন্তের পর সানাই হত্যার মূল আসামি সানাইয়ের ছেলে রানাকে গ্রেফতার করা হয়। রানাকে গ্রেফতারের তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাইনায়ের লাশ রান্না ঘরের মাঝে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২ মে) রাতে খোকসা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।