‘ফণী’ আঘাত হানবে শনিবার সকালে, থাকবে ৬-১০ ঘণ্টা!

sokale
❏ শনিবার, মে ৪, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় আবহাওয়া অধিদফতরে এক ব্রিফিংয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ফণী শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করবে। দেশে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা থাকতে পারে এটি।

সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, ঘূর্ণিঝড়টি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। সাতক্ষীরার উত্তর দিকে নড়াইল, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাগঞ্জ হয়ে ক্রমশ তা আরও উত্তর দিকে চলে যাবে। বাংলাদেশে এটি ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা অবস্থান করবে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ফণী শুক্রবার সন্ধ্যার পর বাংলাদেশে সীমানায় আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি সারা রাত ধরে বাংলাদেশ অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করবে।

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী একাধিকবার দিক পরিবর্তন করে অবশেষে শুক্রবার ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানে। সেখানে এই ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে প্রাণ তিন জনের প্রাণহানি ঘটে।

তবে ওড়িশায় আঘাত হেনেই শক্তি হারাতে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এ ঘূর্ণিঝড়। কিন্তু ভয়াবহতা কমলেও গতি ও দিক পরিবর্তন হয়নি ফণীর। কলকাতা ঘেঁষে বাংলাদেশের খুলনার দিকেই আসছে এ ঘূর্ণিঝড়।

ফণী ভারতের ওড়িশায় ১৮০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানলেও ওই গতিবেগ কমে ১০০ কিলোমিটার হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হবে। ১০০ কিলোমিটার গতিবেগ হলেও অতীতে এই ঝড়ো হাওয়াতেও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক বলেন, ভূমির উপর দিয়ে ফণী আসার কারণে জলোচ্ছাসের সম্ভাবনা কম, তবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। উৎপত্তি স্থল থেকে ঘূর্ণিঝড়টি এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে।

আবহাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারে মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় ফণী শনিবার সকালের মধ্যে খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে। ফণীর প্রভাবে বাংলাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে।