ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি হাঁস-মুরগি খামারের করুণ দশা

৫:৩৪ অপরাহ্ন | শনিবার, মে ৪, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার একমাত্র সরকারি হাঁস মুরগির খামারটির ব্যবস্থাপক নেই একবছর ধরে। যে পুকুরটিতে পেখম মেলে ভেসে বেড়ানোর কথা ছিল হাঁসের সেখানে এখন ভাসে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকের বর্জ্য। ডিম ফোটানোর যন্ত্র নেই, ব্রুডার হাউস নেই খামারটিতে।

এমন নেই নেই অবস্থায়ও ১শ কোটি টাকার ওপর বিনিয়োগ করা হয় ঠাকুরগাঁও জেলার একমাত্র সরকারি হাঁস মুরগির খামারটিতে। তারপরও খামারটির রুগ্ণ দশায় দিন পার করছে। এ ব্যাপারে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও গত ১০ বছরে টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের।

ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী জেলায় আমিষের ঘাটতি পূরণের জন্য হাঁস-মুরগি ও উন্নত জাতের হাঁস-মুরগির বাচ্চা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৯৮২-৮৩ অর্থ বছরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সামনে ৩ দশমিক ১৭ একর জমির ওপর সরকারি এ খামারটি স্থাপিত হয়। বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরেও শুধুমাত্র অব্যবস্থাপনা এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এ খামারে পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছেনা।

ঠাকুরগাঁও সরকারি হাঁস মুরগি খামারের সেট আপ অনুযায়ী মোট পদের সংখ্যা ১৪টি। ব্যবস্থাপক ও পোলট্রি উন্নয়ন কর্মকর্তা বাদে কর্মচারীর সংখ্যা ১২জন। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৮ জন। ব্যবস্থাপক পদটি শূন্য গত এক বছর ধরে। এ পদের দায়িত্বে আছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আব্দুর রহিম। তিনি মাঝে মাঝে এসে দেখে যান।

সরেজমিন উক্ত খামার পরিদর্শন করে দেখা যায়, এর সর্বত্রই অযত্নে অবহেলায় রুগ্ন দশা বিরাজ করছে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। জানালা দরজা ভাঙা। এক কথায় বলা যায় এগুলো বসবাসের অযোগ্য।

খামারে মুরগি পালনের সেড রয়েছে ৩টি। এর মধ্যে একটি একেবারেই শূন্য। একটিতে ২২টি ফাওমি জাতের মুরগির বাচ্চা আর একটি সেডে মিশ্র জাতের ২,৭০০টি ২-৩দিন বয়সী বাচ্চা দেখতে পাওয়া যায়। এখানে কোনো ইনকিউবেটর মেশিন না থাকায় বাচ্চা ফোটানো হয়না। রংপুর থেকে একদিনের বাচ্চা এনে পালন করে ৪০দিন বয়স হলেই বিক্রি করে দেয়া হয়। ব্রুডার হাউস না থাকায় একদিনের বাচ্চা এনে সেডেই ব্রুডিং এর ব্যবস্থা করা হয়, কিন্তু এতে সঠিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বাচ্চার বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয় না।

নামে হাঁস-মুরগির খামার হলেও এখানে কোনদিনই হাঁস পালন করা হয়নি। তবে ক্যাম্পাসের ভেতরেই একটি পুকুর রয়েছে। সে পুকুরটিতে খামারের পাশের একটি বে-সরকারী ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা হয়। এতে পুকুরটি মজা পুকুরে পরিণত হয়েছে, পাশাপাশি মারাত্মক পরিবেশ দূষণের আশংকা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খামারের একজন কর্মচারী জানালেন, বহুবার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেও বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে পারিনি। তিনি আরও জানান পুকুরে একবার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাছ চাষ শুরু করেছিলেন, সে মাছও বহিরাগতরা এসে তুলে নিয়ে গেছে।

একটা সময় ছিল যখন ঠাকুরগাঁও সরকারি হাঁস মুরগি খামারের তিনটি সেডেই বিভিন্ন বয়সী আরআইআর, হোয়াইট লেগ হর্ন, ফাওমি, সোনালি জাতের মুরগি পালন করা হতো এবং হ্যাচিং ডিম সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হতো। অনেক সময় খামারের ব্যবস্থাপনায় গ্রামে গ্রামে মোরগ বিনিময় কর্মসূচিও পালন করা হতো।

দিন দিন যেখানে এ খামারটি আরও উন্নত করে পোলইট্র শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করার কথা সেখানে এখন খামারের অস্তিত্বই বিলীন হওয়ার পথে।

আলাপ প্রসঙ্গে খামারের কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সামান্য সুনজর দিয়ে নতুন সেড নির্মাণ, কোয়ার্টার সংস্কার, আধুনিক ইনকিউবেটর মেশিন স্থাপন, ব্রুডার হাউজ ও হ্যাচারি স্থাপন করে দিলেই ঠাকুরগাঁও সরকারি হাঁস মুরগির খামারটি এলাকার ক্ষুদ্র খামারি ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের অর্থ আয় করতে পারবে।

অথচ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, শহরের মূলকেন্দ্রে ৩.১৭ একর জায়গার ভ্যালু, গাড়ি অচল তবু ড্রাইভারকে বসে বসে বেতনসহ সরকারি মোট বিনিয়োগ ১শ কোটির ওপর কিন্তু ফলাফল অশ্বডিম্ব।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত খামার ব্যবস্থাপক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, অবহেলা আর অব্যবস্থাপনাতো আছেই। তবে দ্রুত অব্যবস্থাপনা দূর করবার চেষ্টা করা হচ্ছে।অন্য দিকে খামারের সামনের জায়গাটি অস্থায়ী কিছু দোকান পাট বসে খামারের দৃশ্বমান সন্দষ দরজ নষ্ট হচ্ছে বছরের পর বছর।এ-ব্যাপারে খামার কতৃপক্ষ একাধিক বার ভাসমান দোকান গুলী তুলে দেওয়ার চেস্টা করে ও সফল হয়নি।