ভোলা মনপুরায় বাঁধ ভেঙ্গে ৩ গ্রাম প্লাবিত

Monpura
❏ শনিবার, মে ৪, ২০১৯ বরিশাল

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার মনপুরায় ঘূর্ণীঝড় ফণীর প্রভাবে বাঁধ ভেঙ্গে ৩ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ২ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ফণীর তান্ডবে উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক বাড়ি-ঘরসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে মনপুরা থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলীর চর ও চরনিজামের নিম্নাঞ্চল এলাকায় ৩ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এছাড়াও বিচ্ছিন্ন চর নিজামে শতাধিক গবাধি পশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরনবী মুঠোফোনে জানিয়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাজিরহাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ফকিরের দোন এলাকায় নতুন বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর ও মনপুরা ইউনিয়নের ঈশ্বরগঞ্জ এলাকা প্লাবিত হয়। এছাড়াও হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ওই সমস্ত এলাকায় ২ হাজার বেশি মানুষ বাসিন্দা পানিবন্ধী হয়ে পড়ে।

এছাড়াও রাতভর ফণীর তান্ডবে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট এলাকায় জীন রফিকের বাড়ি, মৎস্য ঘাটের সালাউদ্দিনের মৎস্য আড়ত, হানিফ হাজীর বাড়ি, আঃ মালেকের বাড়ি, বাবুল মাতাব্বরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,অফিসার্স ক্লাব, রফিকের বাড়ি, মনপুরা ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন কলাতলীর চরে কবির বাজারের হাসান পাটোয়ারীর দোকান, গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি, ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরনিজামে মোঃ রফিক, হোসেন, আলমগীর, নবাব, কামরুল, মনজু, সেকান্তর, রাজীব, ইউসুফ, জাহাঙ্গীর ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মোস্তফা, বাবুল পিটার, হারুনের ঘরসহ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়।

এদিকে চরনিজামের কৃষক হারুন, সুমন ও বাবুলের শতাধিক ভেড়া ও ছাগলের মৃত্যু হয়। এছাড়াও উপজেলার মাষ্টার হাটের পশ্চিম পাশের বেড়ীবাঁধ, দক্ষিণ সাকুচিয়ার সূর্যমূখী বেড়ীবাঁধ, হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনার চর বেড়ীবাঁধ হুমকীর মুখে রয়েছে। যে কোন সময় বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

ফণীর তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরজমিনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এছাড়াও তিনি বিচ্ছিন্ন মহাজনকান্দি এলাকা থেকে লোকজন ছরিয়ে এনে চরকৃঞ্চপ্রসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দিয়েছেন। সেখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করেন।

মনপুরা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনদেরকে মাঝে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

মনপুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ এর উপ-সহকারি প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে। দ্রুত ভাঙ্গা বেড়ীবাঁধ মেরামত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ২০ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকার বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাঙ্গা বেড়ীবাঁধ দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ হয়েছে।