‘সিডর’ কেড়ে নিয়েছিল ইব্রাহিমের বড় ছেলেকে, ‘ফণী’ কাড়ল মা ও ছোট ছেলেকে


❏ রবিবার, মে ৫, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, বরগুনা :: নুরজাহান (৬০) ও জাহিদুর (৯)। তারা সম্পর্কে দাদি ও নাতি। ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে বরগুনার পাথরঘাটায় প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাসে ঘর ধসে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের বাঁধঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নুরজাহান বাঁধঘাট এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের মা ও জাহিদুর তার ছেলে। ফণী যেমন এবার ইব্রাহিমের কাছ থেকে তার মা ও ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে ঠিক কয়েক বছর আগে ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর তার বড় ছেলেকে কেড়ে নেয়। এরপর অভাব অনটন আর ছেলে হারানোর যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন তার স্ত্রী।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছেলে হারানোর ক্ষত, এরপর স্ত্রীর আত্মহত্যার যন্ত্রণা কাটতে না কাটতেই এবার প্রাণপ্রিয় মা আর ছোট ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাগলপ্রায় ইব্রাহিম। ভেঙ্গে পড়েছেন আপাদমস্তক।

জানা যায়, দরিদ্র জেলে ইব্রাহিম অন্যের ট্রলারে মাছ ধরে কষ্টের জীবন-যাপন করতেন। স্ত্রী সন্তান আর বাবা-মাকে নিয়ে দু’বেলা খাবার জোগাতে যুদ্ধ করছিল প্রতিনিয়ত।

২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর যখন উপকূলে আঘাত হানে তখনও জীবিকার তাগিদে ট্রলারেই ছিলেন ইব্রাহীম। এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় জলোচ্ছ্বাসের প্রবল তোড়ে স্ত্রী জেসমিনের কোল থেকে ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয় বড় ছেলে রবিউলের। চোখের সামনে নিজের কোল থেকে ছিটকে পড়ে সন্তানের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন জেসমিন।

সিডরের বছর দুয়েক পর জেসিমিনের কোলজুড়ে জন্ম নেয় জাহিদুর। এরপর অভাবের সংসারের দৈনন্দিন যাতনা আর বৌ-শাশুড়ির ঝগড়ার এক পর্যায়ে বছর তিনেক আগে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন স্ত্রী জেসমিন।

এরপর ছোট ছেলে জাহিদুর আর মেয়ে জান্নাতিকে নিয়ে একরকম চলছিল ইব্রাহীমের। এরইমধ্যে রোগে ভুগে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয় বাবা আ. বারেকের।

সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে ইব্রাহিমের বাড়ির একটি কক্ষ ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই দাদি-নাতির মৃত্যু হয়। গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম হোসেনের বাড়িটি কাঠের ছিল। বাড়ির একটি কক্ষে দাদি নুরজাহানের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল নাতি জাহিদুর।

শনিবার ইব্রাহীমের বাড়ি পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: জাকির হোসেন। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইব্রাহীমকে ৪০ হাজার টাকার সহযোগিতা করেন।