• আজ সোমবার, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২ আগস্ট, ২০২১ ৷

দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলাে ’গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জার ফোরাম’ ( ভিডিও সহ)

Gazipur
❏ বৃহস্পতিবার, মে ৩০, ২০১৯ ঢাকা

পলাশ মল্লিক, সময়ের কণ্ঠস্বর: স্টেশনে থাকা যাত্রীদের ট্রেনের অবস্থান জানিয়ে দেয়া, যাত্রীদের ট্রেনে উঠানামা করতে সাহায্য করা ও যাত্রীদের রেল লাইন থেকে নিরাপদ দুরত্বে সরিয়ে নেয়া এবং ঝুকি নিয়ে ট্রেন ভ্রমন থেকে যাত্রীদের বিরত রাখার মতো মহত কাজটি করে যাচ্ছেন তারা। বুকে ঝুলানো প্লেকার্ড, হাতে প্রচারযন্ত্র (মাইক) ও বাঁশি নিয়ে  যারা এ কাজটি করছেন তারা পেশায় কেউ ছাত্র,চাকরীজীবি, কেউবা খেটে খাওয়া মানুষ। ‍সম্পুন্ন স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ কাজটি যারা করে চলেছেন তারা হলেন গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেন্জারস ফোরামের ‍সদস্য।

“গাজীপুর ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জার ফোরাম” নামে  ‍সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যাত্রা ‍শুরু করা এ সংগঠনটির পেইজে বর্তমান ‍সদস্য ২৯,১৯৪জন। অ্যাডমিন ও মডারেটর প্যানেলে আছেন ৩৭জন। এছাড়াও স্পেশাল রেসপন্স টিমে আছেন ৭২জন সদস্য যাদের দুজন নারী, যারা রেল ষ্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা তৈরীতে কাজ করেন।

কয়েক বছর আগে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায় এক বন্ধু । এর পর থেকেই গাজীপুরের তিন বন্ধু মিলে ট্রেনে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীদের সচেতনতা তৈরীতে কাজ শুরু করেছিলেন ২০১৫ সালে। দীর্ঘদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন তারা। এর পাশাপাশি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী১৭তারিখ থেকে তারা রেসপন্স টিমের মাধ্যমে ষ্টেশনে  শুরু করেছেন যাত্রীদের সচেতনতার কাজ। সমাজসেবামুলক এই কাজে কয়েক বছরেই তারা চলে এসেছেন আলোর রেখায়, তাদের এই সেবা সারা ফেলেছে সবার মধ্যে।

গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জার ফোরাম গঠন করেছিলেন তিন বন্ধু তামিম, নয়ন ও সালেহীন । এরা সবাই পেশায় আইটি প্রকৌশলী, তাদের বাড়ী গাজীপুরে। পরে তাদের সাথে যোগদেন মীর মাহবুব নামের আরো এক বন্ধু। তাদের প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিনা টিকেটে ট্রেন ভ্রমনের বিরুদ্ধে সচেতনতা, ট্রেনের ছাদে ভ্রমনে যাত্রীদের নিরুৎসাহিত করা, ট্রেনে নারী যাত্রীদের হয়রানী রোধে সচেতনতা তৈরী, ট্রেনে ঢিল ছোড়ার বিষয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, ট্রেন দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে যাত্রীদের সচেতন করা।

এসব কাজের বাহিরেও এই ফোরামের সদস্যরা রেল ষ্টেশনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান,মাদকসেবীদের আড্ডা উচ্ছেদ, ট্রেনে যাত্রীদের কোন জিনিষপত্র হারানো ও প্রাপ্তিতে সহায়তা দেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত চলাচলকারী ট্রেনের অবস্থান জানিয়ে থাকেন প্রতিমুহুর্তে, এজন্য তারা তৈরী করেছেন গাজীপুরের সকল ট্রেনের শিডিউল ভিত্তিক অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ TrainfoBd। এই ফোরাম গাজীপুর রেল ষ্টেশনে রেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানীর ঘটনারোধে নিজস্ব উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত হলুদ সেইফটি লাইন তৈরী করেছেন।

সরেজমিনে দেখাযায়, জয়দেবপুর ‍স্টেশনে ট্রেন প্রবেশের পূর্ব মূহুর্তে একদল ‍যুবক প্রথমে বাঁশি বাজিয়ে পরে মাইক দিয়ে যাত্রীদের প্লাটফর্মে নিরাপত্তা রেখার ভিতরে থাকার ‍অনুরোধ জানাচ্ছেন। সেই সাথে যাত্রীদের নিরাপদ দুরত্বে সরিয়ে নিচ্ছেন।  প্লাটফর্মে ট্রেন প্রবেশের পর প্রতিটি বগির প্রবেশ মুখের পাশে দাড়িয়ে থেকে প্রথমে ট্রেনে থাকা যাত্রীদের নামতে দিচ্ছেন পরে উঠার সুযোগ করে দিচ্ছেন।  ফলে স্টেশনের শৃঙ্খলা বজায় থাকছে সেইসাথে ‍সময়ও কম লাগছে । তাছারা ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে ভিতরে যেতে কাজ করছেন স্পেশাল রেসপন্স টিমের ‍সদস্যরা।

স্পেশাল রেসপন্স টিমের ‍সদস্য, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত জুয়েলরানা এবং জয়নাল আবেদিন ‍সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, তাদের মতো স্পেশাল রেসপন্স টিমের  সকল ‍সদস্য ‍অবসর ‍সময়ে বা ছুটির দিনে্ সিডিউল করে এ কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্পেশাল রেসপন্স টিমের  একাজকে স্বাগত জানিয়েছেন ‍সাধারণ যাত্রীরা। প্রতিদিন ট্রেন ভ্রমনকারী ‍শিবাষীশ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান,  গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জার ফোরাম যে কাজটি করছেন তা আমাদের দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভাল কাজের ইচ্ছা থাকলে তা যত কঠিনই হোক তা  যে করা সম্ভব তারা প্রমান করেছে তারা। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এবছর ঈদে ঘরমুখো মানুষ  এর সুফল পাবে।

এই গ্রুপের অন্যতম উদ্যোক্তা তামিম জানান,আমরা ট্রেনে চলাচল করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হই। এছাড়াও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে অনেক। আমাদের এই সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব বিষয়ে প্রচার চালিয়ে আসলেও চলতি বছর থেকে রেসপন্স টিমের মাধ্যমে শুরু করেছি সরাসরি রেল ষ্টেশনে যাত্রীদের মধ্যে প্রচারণা।  ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে দুর্ঘটনা রোধে হলুদ সেইফটি লাইন সারাদেশের সব ষ্টেশনে গড়ে তোলা ও সারাদেশে সকল জায়গায় রেসপন্স টিমের মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে প্রচার চালানো।

স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে গড়ে তোলা গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জার ফোরামের কাজের বিষয়ে জয়দেবপুর রেলজংশনের ষ্টেশন মাষ্টার শাহজাহান জানান, রেলওয়ের সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে অনেক সময় যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে স্থানীয় এই ফোরামের এগিয়ে আসা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এই সেবামূলক কাজের ফলে একদিকে যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হওয়ায় দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। এছাড়াও সাধারন যাত্রীরাও উপকৃত হচ্ছেন।

ভিডিও

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন