মিরপুরে থানার সামনেই সাংবাদিককে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি মাদক ব্যবসায়ীর


❏ সোমবার, আগস্ট ৫, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- রাজধানীর মিরপুরের শাহ্ আলী থানা এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সময়ের কণ্ঠস্বরের ষ্টাফ রিপোর্টার রাজু আহমেদকে হত্যার পর লাশ গুমের হুমকি দিয়েছেন খলিল শিকদার (৩০) নামে পুলিশের সোর্স নামধারী মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার।

রোববার (৪ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাহ আলী থানার সামনে সাংবাদিক রাজু আহমেদকে এ হুমকি প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

এর আগে গত ২৫ জুলাই সময়ের কণ্ঠস্বরে “গুটিকয়েক গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে শাহ্ আলী থানা এলাকায় ভয়াবহ মাদক সিন্ডিকেট” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি গোটা মিরপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকালে সাংবাদিক রাজু আহমেদকে তার শরীরের চামড়া ছিলে লবণ লাগিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

রাজু আহমেদ বলেন, গত ৩ আগষ্ট (শনিবার) শাহ আলী থানা পুলিশ গুদারাঘাটের ৯তলার সামনে কুখ্যাত মাদকের স্পট হিসেবে চিহ্নিত বাবুল তালুকদারের বাড়ির কেয়ারটেকার হেনা (৪২) নামে পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করেছে শুনে ঘটনার সত্যতা জানতে আমি থানায় যাই। এসময় হেনাকে পুলিশি হেফাজত থেকে ছাড়াতে তদবিরের উদ্দেশ্যে খলিল শিকদারও থানায় আসে।

তিনি বলেন, খলিল শিকদার থানার সামনে আমাকে দেখে আকষ্মিক বলতে থাকেন, তুই আমার বড় ভাই বাবুল তালুকদার ও আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার সাহস কোথায় পেলি? চল, আজ তোর শরীরের চামড়া ছিলে লবণ লাগিয়ে দেবো। থানার সামনে তো এটা করা যাবেনা। চল ফাঁকে যাই- বলেই সে আমার হাত ধরে টানাটানি করে ঘটনাস্থল থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।”

“ঠিক এসময় শাহ্ আলী থানার একজন সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) বিষয়টি লক্ষ্য করে খলিলকে ধমক দিলে সে সেখান থেকে সটকে পড়েন। তবে যাবার সময় বলে যান, আজকে তুই বেঁচে গেলি। কিন্ত ভবিষ্যতে তুই আমার বা আমার বড় ভাই বাবুল তালুকদারের চোখের সামনে পড়িস না। মিরপুর ছেড়ে পালিয়ে যা। না হলে আমি আর আমার বড় ভাই ভবিষ্যতে তোকে সামনে পেলে তোর শরীরের চামড়া ছিলে লবণ লাগিয়ে হত্যা করে তোর লাশই গুম করে ফেলবো।”

এদিকে প্রকাশ্যে হুমকি পেয়ে সাংবাদিক রাজু আহমেদ শাহ্ আলী থানার ওসিকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি আজ সোমবার (০৫ আগস্ট) সকালে একটি সাধারণ ডায়রি করেন। জিডি নম্বর ২৩৯।

তবে এই খলিল পুলিশের সোর্সগিরির অন্তরালে বিশাল মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও পুলিশ তাকে কেন আটক করছে না? নাকি পুলিশ তার মাদক ব্যবসায়ের বিষয়ে অজ্ঞাত? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে শাহ্ আলী থানা এলাকার সচেতন বাসিন্দাদের মনে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে মুঠোফোনে বাবুল তালুকদারের সঙ্গে সময়ের কণ্ঠস্বর থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাউকে হুমকি দেওয়ার নির্দেশ দেননি বলে দাবি করেন।

বাবুল তাকুকদার বলেন, আমি এসবের বিষয়ে কিছুই জানিনা। খলিল কেন আমার নাম ভাঙিয়ে সাংবাদিককে হুমকি দিল বুঝতে পারছি না। খলিলকে ব্যবহার করে আমার নাম ভাঙিয়ে সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে কোন তৃতীয় পক্ষ আমাকে হয়রানি করাসহ কোন ফায়দা লুটতে চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।

এ বিষয়ে শাহ্ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, সাংবাদিকের সাধারণ ডায়রির বিষয়টি আমি জেনেছি। তিনি নিজেও আমার নিকট এসেছিলেন। হুমকির বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে ‘থানার সামনে সাংবাদিক রাজু আহমেদকে হুমকি দেওয়া হয়েছে’ এটি সত্য নয় বলে দাবি করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, সময়ের কণ্ঠস্বরে মাদকের ওই সংবাদ প্রকাশের পর গত ৩১ শে জুলাই র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৪) নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিজামুদ্দিনের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযানে শাহ আলী থানাধীন চিড়িয়াখানা রোডের ঈদগাহ মাঠের কোনে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বাড়িস্থ তারই নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধা পূর্নবাসন সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমান্ড অফিসে জুয়া খেলার অপরাধে ২১ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করে জেলহাজতে পাঠান।

এছাড়া শাহ্ আলী পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে সাহিদা নামের এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে ৩৫ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। এছাড়া হেনা নামে অপর এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে ৫০ গ্রাম হেরোইন ও নুরুজ্জামান নামে একজনকে ২০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন