সংবাদ শিরোনাম
বছরের প্রথম দিনই চার কোটি ২৭ লাখ শিক্ষার্থী পাচ্ছে বিনামূল্যের নতুন বই | টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে জাফর-মওলা | খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ | সৌদিতে কেন আমাদের ধুঁকে ধুঁকে মরতে হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রীকে নির্যাতিত নারী | অপরাধী যেই হোক, শাস্তি পেতেই হবে, এটাই সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী | ‘পুলিশ বলেছে, কার্যালয় থেকে নিচে নামলেই ব্যবস্থা নিবে’ | নয়াপল্টন ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র‌্যালি করতে পারছে না বিএনপি | গাভীর পেট থেকে একটি বড় চোখ নিয়ে অদ্ভুত বাছুরের জন্ম! | ৩৮ জন আরোহীসহ চিলির সামরিক বিমান নিখোঁজ | স্বামী খাট কিনে না দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর আত্মহত্যা! |
  • আজ ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দপ্তরির কানের পর্দা ফাটয়ে টাকা নেওয়া সেই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

১২:৩৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে নির্যাতন করে কানের পর্দা ফাটিয়ে টাকা আদায় করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতেই তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগেগত শনিবার রাত ১০টার দিকে এসআই জামিরুলের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার ছয় পুলিশ সদস্য খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে তারা বিদ্যালয়ের দফতরি উবায়দুল্লার কক্ষের দরজায় টোকা দেন। দরজা খোলার পর এখানে বশির নামে কেউ আছে কি-না জানতে চান। এ নামে কেউ নেই বলার পরও তারা উবায়দুল্লার পকেটে হাত দেন। পকেট হাতিয়ে কিছু না পেয়ে আবার বলেন বাচ্চু নামে কেউ আছেন কি-না। এরপর উবায়দুল্লাকে স্কুলের সব শ্রেণি কক্ষের দরজা খুলতে বলেন এসআই জামিরুল।

পরে আবার তারা উবায়দুল্লার পকেট চেক করার নামে কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দেন। এরপরই জামিরুল তাকে বলেন, ‘তুই ইয়াবা ব্যবসা করছ, আর কোথায় কোথায় ইয়াবা আছে বল।’ এসব বলার পরই উবায়দুল্লাকে বেদম পেটাতে থাকেন জামিরুল ও অন্য পুলিশ সদস্যরা। দুই কানে এবং মাথায় এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারা হয় উবায়দুল্লাকে। এতে তার কানের পর্দা ফেটে যায়। খবর পেয়ে উবায়দুল্লার বাবা নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এলে তাকে আটক করে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেন জামিরুল।

এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তালেব আসার পর দুই হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে উবায়দুল্লা ও তার বাবাকে ছাড়া হয়। তবে এ ঘটনা সম্পর্কে কাউকে জানালে মাদক মামলা ফাঁসানোরও হুমকি দেন জামিরুল।

ঘটনার পরদিন রোববার উবায়দুল্লাকে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কার্যালয়ে উবায়দুলস্নাহর কাছ থেকে বিষয়টি অবহিত হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলমগীর হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবির।

এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় মেম্বারের উপস্থিতিতে ঘটনার বিস্টত্মারিত বর্ণনা করেন উবায়দুলস্নাহ। ঘটনা শুনে পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি লিখিত আকারে পুলিশ সুপারকে দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে সোমবার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন আহত দফতরি উবায়দুলস্নাহ।

Loading...