• আজ বুধবার, ১৩ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জুলাই, ২০২১ ৷

থানায় গণধর্ষণ: খুলনার সেই ওসি-এসআই ক্লোজড


❏ বুধবার, আগস্ট ৭, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, খুলনা- খুলনা জিআরপি থানা হাজতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় থানার ওসি উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে।

বুধবার (৭ আগস্ট) তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এখন আদালতের কোনো কিছু পাইনি। এমনকি ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হয়নি।

এর আগে, গত শুক্রবার (২ আগস্ট) খুলনার জিআরপি থানার ওসি ওসমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক তরুণীকে (২১) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষা শেষে ওই নারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মো. শফিউজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ওই নারীর শরীরে কোনো ক্ষতস্থানের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিন্তু অনেক সময় ক্ষত পাওয়া না গেলেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে। সংগৃহীত আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

ওই তরুণীর দুলাভাই জানান, গত ২ আগস্ট তার শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। ট্রেন থেকে নামার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে নিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরে গভীর রাতে জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি পাঠান প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আরও চারজন পুলিশ সদস্য পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয় বলে তার শ্যালিকা তাদের জানিয়েছেন।

নির্যাতিতার দুলাভাই বলেন, আদালতে বিচারকের সামনে নেওয়ার পর তার শ্যালিকা জিআরপি থানায় তাকে গণধর্ষণের বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওসি ওসমান গনি মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় তিনি হুমকি দিচ্ছেন।

এদিকে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন