• আজ সোমবার, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২ আগস্ট, ২০২১ ৷

বেনাপোলে সাড়ে ১২ কোটি টাকার ভায়াগ্রার চালান আটক


❏ বুধবার, আগস্ট ৭, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

মহসিন মিলন, বেনাপোল প্রতিনিধি- মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট আড়ালে আমদানী করা (২৫০০ কেজি) আড়াই টন ভায়াগ্রা আটক করেছে কাস্টমস্ কর্তপক্ষ।

জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ১২ কোটি টাকা মূল্যের এই চালানের বিষয়ে আজ বুধবার দুপুরে বেনাপোল কাস্টমস ক্লাবে এক প্রেস কনফারেন্সে কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

কাস্টমস সুত্র জানায়, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মিটফোর্ডের বায়োজিদ এন্টারপ্রাইজ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ২ হাজার ৫’শ কেজি “সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট” আমদানি করেন। যার এলসি নং-৯৪৬১৯০১০৩৪২ তারিখ: ২১/০৫/২০১৯। কাস্টমস মেনিফেস্ট নাম্বার- ১৯১৯৩ তারিখ: ২৬/০৫/২০১৯। যার বিল অব এন্ট্রি নম্বার -সি-৩৬৪৯৬, তারিখ: ২৯/০৫/২০১৯।

পণ্য চালানটি রাজস্ব পরিশোধ করে বন্দর থেকে খালাশ নেয়ার সময় গোপন সুত্রে খবর পেয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা পন্য চালানটি আটক করে গত ০৩ জুলাই বিকেলে। পরে সতর্কতার সাথে কাস্টম হাউসের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবে “রমন স্পেক্ট্রোমিটার’র” সহযোগীতায় ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পরীক্ষা শেষে ভায়াগ্রা বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরবর্তীতে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য বিবেচনায় পণ্যের নমুনা বুয়েট, বিসিএসআই আর, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ২ মাস পর বুয়েট ও বিসিএসআই আর পরীক্ষা শেষে পন্য চালানটি “সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট” বলে প্রতিবেদন দায়ের করে।

পরবর্তীতে কাস্টমস কতৃপক্ষ বিষয়টি আবারও ঢাকার ওষুধ প্রশাসন ও কুয়েটের পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রেরণ করে। তারাও দীর্ঘ সময় পরীক্ষা করে ৯৯.০৮ % সেক্স ভায়াগ্রা পাওয়া গেছে বলে পরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরেই অপঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার ১৮২ সদস্য দেশকে মাদক, বিস্ফোরক ও এ ধরনের ক্ষতিকর পণ্য চোরাচালানের বিষয়ে দীর্ঘদিন সর্তকবার্তা দিলেও বাংলাদেশেই বিশ্বের প্রথম এ ধরনের বড় চালান আটক করা হলো। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানানো হলে তাঁরা ভবিষ্যতে আরো সতকর্তার সাথে কাজ করার নির্দেশনা দেন বেনাপোল কাস্টমস হাউস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীকে।

পন্য চালানটি টেস্টে পাঠানোর আগে পরীক্ষা ছাড়াই ছেড়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীকে নানাভাবে হুমকি-ধামকিসহ জীবন নাশেরও হুমকি দেয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় যুগ্ন কমিশনার শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিতে ৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে.কর্ণেল সেলিম রেজাকে অন্তর্ভক্ত করা হয়। ঘটনার সাথে সংশ্লিস্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট সাইনী শিপিং সার্ভিসেস’র লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়।

তদন্ত কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। রিপোর্ট পাওয়ার পরই দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করা হবে বলে কাস্টমস সুত্র জানান।

ইতোমধ্যে এ ধরনের আর একটি ২’শ কেজির সেক্স ভায়াগ্রার চালান জুলাই মাসে আটক করা হয়েছিল।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন