• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

জমির জন্য মা’কে মারধর করলো ছেলে

ma
❏ শুক্রবার, আগস্ট ৯, ২০১৯ রংপুর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় কিরণ বালা বর্মনী নামে এক বৃদ্ধা নারীকে জমির জন্য মারধর করেছে তার ছোট ছেলে হেমন্ত বর্মণ। ওই মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ করায় এবং মামলার সাক্ষী মেয়ে জামাই, ভাতিজা ও আইনজীবীর সহকারীর বিরুদ্ধে উল্টো ধর্ষণের চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তার ছেলের স্ত্রী। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন প্রতিবেশী গেন্দুকুড়ি মহিলা কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির রোকন বলে ওই বৃদ্ধার দাবী।

শুক্রবার সকালে হাতীবান্ধা প্রেসক্লাবে এসব অভিযোগ করে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মা কিরণ বালা বর্মনী।

ওই উপজেলার গেন্দুকুড়ি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অমূল্য কুমার বর্মনের বিধবা স্ত্রী কিরণ বালা বর্মনী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বৃদ্ধ বয়সে স্বামী মারা যাবার পর থেকে খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছি। স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা দিয়েই কোন রকমে দিন চলে। সেই টাকারও ভাগ চান ছোট ছেলে হেমন্ত বর্মন। ভরনপোষণ দেয়া তো দুরের কথা আমি কঠিন অসুস্থ হলেও সে কোন প্রকার খোজখবরও পর্যন্ত নেন না। এরমাঝে গত ৩ আগস্ট হেমন্ত বর্মন আমার ১৫ শতাংশ আবাদি জমি দখলের চেষ্টা করেন। বাঁধা দিলে আমাকে মারধর করে ছেলে হেমন্ত বর্মন ও তার লোকজন। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি করান।

বৃদ্ধ বয়সে ছেলে হেমন্তকে দিয়ে আমাকে মারধরের ঘটনায় সকল প্রকার সহযোগিতার করেন গেন্দুকুড়ি মহিলা কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির রোকন। এ ঘটনায় ৬ আগস্ট আমি বাদী হয়ে লালমনিরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। মামলায় অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির রোকন ও ছেলে হেমন্ত বর্মনসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আমার মেয়ে জামাই জগদীশ চন্দ্র ও ভাতিজা বসন্ত কুমার সাক্ষী হয়েছেন।

আদালতে বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করার জন্য ঐ অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির রোকনের পরামর্শে আমাকে মামলা তুলে নিতে ও মামলা স্বাক্ষীদের বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি দেখায় ছোট ছেলে হেমন্ত বর্মন। তাতে কাজ না হলে মামলা দায়েরের একদিন পর বুধবার মধ্য রাতে আমার ছেলে হেমন্ত বর্মনের স্ত্রী শৌব্বা রানী ধর্ষণের চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মেয়ে জামাই জগদীশ চন্দ্র, ভাতিজা বসন্ত কুমার ও মামলার আইনজীবী সহকারী মনোরঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানায় একটি অভিযোগ করেন। যা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

ওই বৃদ্ধা কিরণ বালার বড় ছেলে অনন্ত কুমার বলেন, গেন্দুকুড়ি মহিলা কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির রোকন ওই এলাকায় আমাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। আমাদের বসত বাড়ি ও জমি দখলের চেষ্টা করছেন হুমায়ুন কবির রোকন ও তার লোকজন।

তবে অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির রোকন দাবী করেন কিরণ বালা ও অনন্ত কুমারের অভিযোগ গুলো মিথ্যা-ভিত্তিহীন। তিনি দাবী করেন এবিষয়ে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই, তাদের মা-ছেলের পারিবারিক ঘটনায় উল্টো তারাই আমাকে এক নম্বার আসামি করে আদালতে মামলা করেছে।

হাতীবান্ধা থানার ওসি (তদন্ত) নাজির হোসেন জানান, শৌব্বা রানী নামে এক গৃহবুধকে ধর্ষণের চেষ্টার যে অভিযোগটি করা হয়েছে, তদন্ত করে তা মিথ্যা মনে হয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই এ ধর্ষণ চেষ্টার নাটক করা হয়েছে বলে জানান, ওই ওসি (তদন্ত) নাজির হোসেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন