সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মধ্যরাতে খালি পা-কাজের পোশাকে ১৭৫ কর্মীকে ফেরত পাঠালো সৌদি

৭:৪৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- নিঃস্ব হয়ে সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন ১৭৫ বাংলাদেশি কর্মী। রোববার রাত ১১টা ৭ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৪ ফ্লাইটে করে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

একেবারে খালি হাতে দেশে ফেরা এসব কর্মীদের ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বিমানবন্দরে খাবার সরবরাহসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জরুরি সেবা দিয়েছে।

একেবারে নিঃস্ব এসব কর্মী যখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নামলেন, তখন তাদের অনেকেরই ছিল খালি পা, কারও মুখে এবড়োথেবড়ো দাড়ি। কেউ আবার সৌদিতে যে পোশাক পরে কাজ করতেন, সে পোশাকেই বাংলাদেশে ফিরেছেন।

কর্মরত অবস্থায় সৌদি আরব প্রশাসনের ধরপাকড়ের শিকার হয়ে কোনো টাকাপয়সা না নিয়েই তাদের দেশে ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা।

রোববার রাতে ঢাকায় পা রাখার পর বাড়ি যাওয়ার ও রাতের খাবার খাওয়ারও টাকা ছিল না তাদের কাছে।

জানা গেছে, এসব কর্মীকে বিমানবন্দরে খাবার সরবরাহসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জরুরি সেবা দিয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

১৭৫ জনের সেই দলটির একজন চাঁদপুরের বাবুল হোসেন। তিনি বলেন, ছয় মাসের বৈধ আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) থাকা সত্ত্বেও কর্মস্থল থেকে ধরে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তার কোনো কথা শোনেনি সে দেশের প্রশাসন।

সৌদি প্রশাসনের ওপর একই অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইলের আলিম, মনির হোসেন, নরসিংদীর মো. জোবাইর, লক্ষ্মীপুরের ফরিদ, মুন্সীগঞ্জের শরিফ হোসেন, মেহেরপুরের সেলিম রেজাসহ অনেকে।

মুখে ক্লান্তির ছাপ নিয়ে কর্মস্থলের পোশাক পরা নরসিংদীর মো. জোবাইর বলেন, একেবারেই শূন্যহাত আমার। নিঃস্ব হয়ে ফিরলাম। সময় পেলে পরিবারের জন্য কিছু হলেও নিয়ে আসতাম। এখন কি করে বাড়িতে মুখ দেখাই।

প্রতিদিন শত শত কর্মীকে সৌদি প্রশাসন গ্রেফতার করছে ও যাচাই-বাছাই সেভাবে না করেই তাদের পাঠিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জোবাইর।

তিনি বলেন, রিয়াদ ডিপার্টেশন ক্যাম্পে এখনও হাজার খানেক বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন।

ফেরত কর্মী মনির হোসেন বলেন, বৈধ আকামা থাকা সত্ত্বেও কয়েক দিন আগে আমাকে জোরপূর্বক ধরে জেলখানা পাঠিয়ে দিয়েছিল তারা। এরপর কিছু দিন সেখানে রেখে দেশে ফেরত পাঠাল। তার মতো এমন আরও অনেক ভুক্তভোগী রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া কয়েকজন কর্মীর অভিযোগ, তাদের কফিল (মালিক) আকামা নতুন করে নবায়ন করেনি বা আকামা বাতিল করে দিয়েছে। ফলে সে দেশে থাকতে পারেননি তারা।

এ ক্ষেত্রে সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের কোনো সহযোগিতা করেনি বলেও অভিযোগ করেন ফিরে আসা এসব কর্মী।

তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে। জেলখানায় অনেক বাংলাদেশি আটকে আছেন। তাদের অনেকের আকামা নবায়ন করা হয়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সবাইকে বাংলাদেশে নিঃস্ব হয়েই ফিরতে হবে।

Loading...