রাজবাড়ীর মন্ডপ গুলোতে মাটির কাজ শেষ এখন চলছে রং তুলির শেষ আচর

◷ ৮:৪৪ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯ ঢাকা
RAJBARI PUJA

খন্দকার রবিউল ইসলাম,রাজবাড়ী প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গা পুজাকে ঘিরে রাজবাড়ীর মন্ডপগুলোতে এখন সাঁজ সাঁজ রব। মাটির কাজ শেষ এখন চলছে রং তুলির শেষ আচর, সাথে চুল ও কাপর পরানোর কাজ। প্রতীমা কারিগরদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। এদিকে জেলার মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

প্রতীমা কারিগরদের কল্পনার অবয়বে ধীরে ধীরে মুক্ত হয়ে উঠছেন দেবী। চলছে শেষ মুহুর্তের রং ও চুলের কাজ। এবার রাজবাড়ী জেলার ৫ টি উপজেলায় ৪ শত ৬টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তাই মন্ডপে মন্ডপে চলছে এই কর্মযজ্ঞ।

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় মোট ১৪৬ টি পুজা মন্ডপ রয়েছে এর মধ্যে বাস,কাঠ দিয়ে ৬ তলা বিশিষ্ট ৭ টি অংশে ৩ শতাধীক দেব দেবীর মুর্তি নিয়ে পুজার আয়োজন করেছে আলোকদিয়া দুর্গা পুজা উদযাপন কমিটি। কারিগররা বলছেন যেন দম ফেলারও সময় নেই। যে করেই হোক কাজ শেষ করতে হবে সোমবারের আগেই।শারদীয় দুর্গোৎসব সফল করতে প্রহর গুনছেন সনাতন ধম্বামবলীরা। মা দুর্গার আগমনে অধির প্রতীক্ষা তারা।

রাজবাড়ী জেলার মোট ৪ শত ৬ টি পূজা মন্ডপের মধ্যে ৫০ টি পূজা মন্ডপ অধিক গুরুত্বপূর্ন ১ শত ১৭৯ টি গুরুত্বপূর্ন বাকি গুলো সাধারন হিসেবে ধরা হয়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় পূজা মন্ডপ রয়েছে বালিয়াকান্দি উপজেলার গ্রাম জামালপুর সার্বজনিন দুর্গামন্দির সরেজমিনে ওই পূজা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায় সেখানে সকল প্রকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে চলছে রং তুলির শেষ মহুর্তে কাজ বাকি রয়েছে কাপড় ও গহনা পরিধানের কাজ।

মূর্তি তৈরির সাথে জরিত শ্রমিকরা জানান এই ধরনের একটি পূজা মন্ডপ তৈরি করতে তাদের ৪/৫ জনের দলের কম পক্ষে ১৫ দিন সময় লাগে পরিশ্রমের তুলনায় খুবই কম পারিশ্রমিক পান তারা। আর ধারা গোবিন্দ জিওর মন্দিরের পুজারি জানান তারা এই পূজা মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান সকলে মিলে এক সাথে পুজার আনন্দ ভাগ করে নিতে চান তারা।

রাজবাড়ী জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত জানান ইতিমধ্যে তাদের পূজা উদযাপনের সকল প্রকার প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষায়। তিনি পূজা যাতে সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য জেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসন ও সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, এ বছর দুর্গা পুজায় বাড়তি কিছু নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এ বছর পুজা মন্ডপগুলোকে গুরুত্বপূর্ন, অধিক গুরুত্বপূর্ন ও সাধারন এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সকলকে একটি শান্তিপূর্ন দুর্গা পুজা উৎসব উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। এবারের পুজায় পুজা মন্ডপ গুলোতে পুলিশি ব্যাবস্থা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি জোরদ্বার করা হবে থাকবে আনছার সদস্য, ভলানটিয়ার। এছাড়াও কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যরা দ্বায়িত্ব পালন করবে। তাছারাও থাকবে পুলিশের টহল তিন স্ততের নিরাপত্তার বলয় থাকাবে মানুষ যাতে পুজার আনন্দ একে অপরের সাথে ভাগ করে নিতে পারে সেই ব্যাপারে রাজবাড়ীর পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলায় ৪শত ৬টি ম-পে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৯৮টি মন্ডপ, গোয়ালন্দ উপজেলায় ২২টি মন্ডপ, পাংশা উপজেলায় ৯০টি মন্ডপ, কালুখালী উপজেলায় ৫২ টি মন্ডপ ও বালিয়াকিন্দ উপজেলায় গতবছর ছিল ১৪৪ মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে।