সংবাদ শিরোনাম

জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভাইয়ের হাতে বোন খুন!টাঙ্গাইলে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলায় কলেজ ছাত্র নিহতফেনীর সোনাগাজী পৌর মেয়রের জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি‘ভারতে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই মুসলমানদেরকে শিক্ষা থেকে দূরে রেখেছে’দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশেরসাজার বদলে আদালত থেকে দেয়া হলো বই, ১০ শর্তে মুক্তি পেলো ৪৯ শিশুকুয়াকাটায় সৈকতে ডিগবাজি দিতে গিয়ে পর্যটকের মৃত্যুঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডশাহজাদপুরে বসতবাড়িতে চোরাই তেলের অবৈধ গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, ৩ জন দগ্ধটাঙ্গাইলে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

  • আজ ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে জন্মান্ধ কণ্ঠ শিল্পী মনিন্দ্রনাথের দিন কাটে খেয়ে না খেয়ে, প্রয়োজন প্রতিবন্ধী ভাতা

◷ ৭:১৯ পূর্বাহ্ন ৷ সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯ রংপুর
monindro

আব্দুল করিম সরকার, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী, অসংখ্য মানুষের প্রশংসা কুড়িয়ে, অসংখ্য ভক্ত তৈরী করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অথবা পানের দোকানে বসে আবার কোন কোন সময় মঞ্চেও ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, লালন গান করে শ্রোতাদের দেয়া সামান্য কিছু আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমেই কোনমতে সংসার যাত্রা পরিচালনা করেন রংপুরের পীরগঞ্জে জন্মান্ধ কন্ঠশিল্পি মনিন্দ্রনাথ। ঢোল, সানাই, তবলা, হারমনিয়াম কিংবা বর্তমান যুগের কিবোর্ড, প্যাড, গীটার দিয়ে নয় সামান্য হাতে একটি ছোট্র ঢোলকটিতে তাল দিয়েই অসংখ্য দর্শক শ্রোতাদের মন কুড়িয়েছে এই অসম্ভব প্রতিভাবান শিল্পি মনিন্দ্রনাথ। তার গান শুনে এমন কোন মানুষ নেই যে ওয়ান মোর বলে আরেকটি গান শোনেননি। গান শোনার পর ৫ টাকা ১০ টাকা যে যা দেয় তা নিয়েই সন্তষ্ট এই প্রতিভাবান শিল্পি। মাঝে মাঝে হাটে বাজারে গান করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাকে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুবিধা বঞ্চিত অসহায় দরিদ্র কন্ঠ শিল্পী মনিন্দ্র নাথ হর হামেশাই যে গান গুলো গেয়ে দর্শকের মন কুড়িয়েছেন সেগুলো হলো ‘সত্য বল সু-পথে চল ওরে আমার মন, পরের নারী পরের ধন হরণ করো না, পারে যেতে পারবে না’ অথবা যখন অত্যন্ত দরদ দিয়ে সে গায় ‘আখের কাষ্টমে বান্ধ না দয়াল আমারে’ তখন তন্ময় হয়ে লোকজন তার গান শোনে, হারিয়ে যায় সুরের অতল লহরে, মায়ের এক ধার দুধের দাম কাটিয়া গায়ের চাম পাপস বানাইলোও ঋনের শোধ হবে না, ছোটদের বড়দের সকলের গরিবের নিঃষের ফকিরের আমারি দেশ সব মানুষের। গান শেষে উপস্থিত লোকজন যে টাকা হাতে গুঁজে দেয় তাতেই সন্তষ্ট হয়ে চাল ডাল নিয়ে বাড়িতে যায়। এভাবে রোজ ১০০-১৫০ টাকা কোন দিন ২০০ টাকাও রোজগার হয়। যা দিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থায় কেটে যায় মনিন্দ্র নাথের সংসার।

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাহাদুর পুর গ্রামের মৃত তরণী কান্ত বর্মণের ছেলে মনিন্দ্র। এক ছেলে দুই মেয়েসহ ৫ সদস্যের ভূমিহীন এই পরিবারটির ভরন পোষণে তাই সে হাটে বাজারে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। কণ্ঠ ভাল হেতু এক সময় পীরগঞ্জে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নিবারন প্রকল্পে ৫ বছর গ্রামে গঞ্জে গান পরিবেশন করে নিয়মিত পারিশ্রমিক হিসেবে রোজগার করেছিলেন মনিন্দ্র। সে সময়ই গানের হাতে খড়ি হয় তার। প্রয়োজনের তাগিদেই রেডিও টেলিভিশনে গান শুনে বাড়িতে গান শিখেছে মনিন্দ্র নাথ। এক সময় জয়পুরহাটের খঞ্জনপুরে জার্মানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামাজিক চক্ষু পরিচর্যা ও পুনর্বাসন সংস্থায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে গানের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন সংসারে বেশ সচ্ছলতা ছিল। পরবর্তীতে প্রকল্পে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এসব এনজিও বন্ধ হয়ে যায় একের পর এক। ফলে মনিন্দ্র বেকার হয়ে পড়ে।

এখন বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হাটে বাজারে ঘুরে ঘুরে গান পরিবেশন করে সংসার না চলায় বর্তমানে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় মেয়ের বাড়ীতে থেকে বিভিন্ন-হাট বাজারে গান করে থাকেন। জীবনে সাধ ছিল, অনেক বড় শিল্পী হবেন তিনি। কিন্তু সাধ্যে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়েছে তার আশা নিরাশার সেই চাকা। চির অবহেলিত অসহায় মনিন্দ্রর পানে আজবধি কেউ তাকায়নি। বড় বড় সমাজপতি, সমাজের নামধারী স্ব ঘোষিত সেবক কারো নেক নজর পড়েনি তার দিকে কোন দিনও। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও কোন সরকারি সাহায্য জোটেনি তার ভাগ্যে। অসহায় শিল্পীদের জন্য সমাজ সেবা বিভাগ থেকে নিয়মিত সাহায্যের সরকারি নীতিমালা থাকলেও তা কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। উপজেলা পর্যায়ের কর্তা ব্যাক্তিরা নিজেদের উন্নয়ন নিয়ে এতটাই ব্যতি-ব্যস্ত যে, মনিন্দ্রের মতো প্রত্যন্ত জনপদের এক দরিদ্র শিল্পীর পানে তাকাবার সময় কোথায় তাদের? আর এজন্যই মনিন্দ্রকে জীবিকার প্রয়োজনে গান গেয়ে ঘুরতে হয় হাট থেকে হাটে, বাজার থেকে বাজারে! কিন্তু এভাবে আর কতদিন ? মনিন্দ্রের এই প্রতিভাকে কাজে লাগানোর জন্য কোন স্ব-হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা মনিন্দ্রের পরিবার ও এলাকাবাসীর।